ফেনীতে নিখোঁজের তিনদিন পর হাত-পা বাঁধা জুলাইযোদ্ধাকে উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬৬৬ বার পড়া হয়েছে
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সদস্যসচিব ও গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল আমিনকে (৩০) নিখোঁজের তিন দিন পর হাত-পা বাঁধা ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালিদহ ইউনিয়নের হাফেজিয়া ভাঙার তাকিয়া এলাকার একটি ঝোপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঝোপ থেকে গোঙানির শব্দ শুনে উদ্ধার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে কালিদহ ইউনিয়নের হাফেজিয়া ভাঙার তাকিয়া এলাকার একটি ঝোপ থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান স্থানীয় লোকজন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝোপের ভেতর থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করে। এ সময় তার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। তিনি আহত অবস্থায় ছিলেন। পরে দ্রুত তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আল আমিনের চাচা আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, তাকে উদ্ধারের খবর পুলিশ পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি কথা বলতে পারছেন না। সুস্থ হওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে বলে আশা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন আল আমিন
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২১ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনাগাজীর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন আল আমিন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। ওই দিন রাত ১০টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার দুপুরে তার চাচি কামরুন নাহার সোনাগাজী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর ফেনী সদর উপজেলার একটি ঝোপ থেকে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
আল আমিন সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের উত্তর মঙ্গলকান্দি গ্রামের লকুর দোকানসংলগ্ন আলী আজ্জম মৃধা বাড়ির মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।
২১ মামলার কথা জানালেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান
মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবদল নেতা দাউদুল ইসলাম মিনার জানান, আল আমিন গেজেটভুক্ত একজন জুলাই যোদ্ধা। তার দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল আমিনের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় তার আট বছরের কারাদণ্ড হয়। ওই সময় তার স্ত্রী এক সন্তানকে নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সোনাগাজী উপজেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন আল আমিনকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত করছে পুলিশ
ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান নিখোঁজ আল আমিনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ কাজ করছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশি তৎপরতা চালানো হয়। এর মধ্যে আল আমিনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে যায় অপরাধীরা বলে জানান তিনি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে কারা, কী কারণে আল আমিনকে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





















