জনগণের দেয়া ভোট ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে: শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
জনগণ ভোট দিলেও তা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোট রক্ষা করতে না পারাটা তাদের দুর্বলতা ছিল।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
“ভোট রক্ষা করতে পারলেন না, জনগণ বলে”
শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণ আমাদের বলে, ভোট আপনাদের দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা তা রক্ষা করতে পারলেন না। তখন আমাদের বলতে হয়, আমাদের দুর্বলতা ছিল।”
তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করা গেছে। ভবিষ্যতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নির্দেশনা
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে আল্লাহর দেয়া জ্ঞানের বড় নিয়ামত রয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। “কোনো চোরকে আর ছাড় দেয়া হবে না,” বলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, “আমরা থামবো না, আমাদের থামার সুযোগ নেই।” সিটি নির্বাচনে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে দিনরাত কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেই আলোকে কাজ করলে আর ভুল হবে না।
“বসে বসে তামাশা দেখব না”
সমাজ পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বসে বসে আর তামাশা দেখব না। আমরা সংগতভাবেই প্রতিবাদ করব এবং যেখানে আমাদের সামর্থ্য হবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
সংগঠনের অতীত ও বর্তমান অবস্থা
ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের অতীত সাংগঠনিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় দুই মহানগরীর অবস্থাই অনেক দুর্বল ছিল। নেতাকর্মীদের ত্যাগ, কোরবানি ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই আজকের অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও আত্মিক আলোচনা
সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, দলের মূল লক্ষ্য আল্লাহর জান্নাতে যাওয়া। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ৭০ ভাগ মানুষ অংশ নিয়েছে, যারা দিন আনে দিন খায়। আল্লাহর পথে তাদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে রুকনদের উদ্দেশে আলোচনা করেন শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি মৃত্যু, পরকালীন জীবন এবং আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায়ের বিষয়ে কথা বলেন। নবী ইবরাহিম (আ.) ও নবী ইসমাইল (আ.)-এর পরীক্ষা ও ত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছুই করা সম্ভব নয়, তাই প্রতি মুহূর্তে তাঁর সাহায্য কামনা করতে হবে।

























