সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
- আপডেট সময় : ০২:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান
রাষ্ট্রপতি বলেন, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ। সবাইকে একসঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের শক্তি
বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবনে আয়োজিত আনন্দঘন অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত চলছে, তখন বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। এটিকে দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের শক্তি ও অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য নয়
রাষ্ট্রপতি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বার্তা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এসব অধিকার বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্দেশনা
রাষ্ট্রপতি জানান, সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দরবার হলে উপস্থিত হলে রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























