মাগুরায় পৌর যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা
- আপডেট সময় : ০৪:১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
মাগুরায় পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মাগুরা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারে শাকের হোসেনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পাশের কাউন্টারের কর্মীরা। পরে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোরে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে করে বাস টার্মিনালে আসে। পরে তারা শাকের হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
শাকের হোসেন হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁরা মাগুরা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
মাথার পেছনে গুলির আঘাত
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৃষ্ণ দাস জানান, নিহতের মাথার পেছনের দিকে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেখান থেকে গুলির একটি অংশ উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ
এ ঘটনায় মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, হত্যার কারণ উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।






















