০৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ক্যান্সারের ওষুধ চোরাচালানের চেষ্টা, চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্যান্সারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ চোরাচালানের অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৩। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও নগদ ৬ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এসব ওষুধ বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এসআরবি-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার) মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।

উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার চারজন

এসআরবি-৩ জানায়, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চীনা নাগরিক লি ফেন (৩৪), রংপুরের বকুল নাহার বিথী (২৪), সাতক্ষীরার ইউনুস আলী (২৬) এবং পটুয়াখালীর সজীব হাওলাদার (২৮)।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়। জব্দ করা ওষুধের আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে।

পর্যটক ভিসায় বারবার বাংলাদেশে আসতেন চীনা নাগরিক

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানের বরাতে এসআরবি-৩ জানায়, চীনা নাগরিক লি ফেন ২০২৪ সালের আগস্টে ৩০ দিনের পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই থেকে তিন দিন আগে তিনি চীনে ফিরে যেতেন। এরপর এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আবার পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন।

অন্যদিকে, গ্রেপ্তার বকুল নাহার বিথী ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের হুনান নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি চীনা ভাষা শেখেন। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন চীনা নাগরিকের সঙ্গে দোভাষী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তদন্তকারীদের ধারণা, চক্রটির কার্যক্রমে ভাষাগত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা ভূমিকা রাখতে পারে।

কুরিয়ারে লাওসসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ পাচার

এসআরবি-৩-এর তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া ওষুধ বিদেশে পাঠিয়ে বেশি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছিল। এ জন্য সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করা হতো। লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব ওষুধ পাঠানো হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

বিশেষ করে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এই চোরাচালানের তালিকায় ছিল। চক্রটির সদস্যরা ২৪ থেকে ২৫ কেজি ওষুধ কার্টনে ভরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাতেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।

লাওসে জব্দ হয় ১০০ কেজি ওষুধের চালান

এসআরবি-৩ জানায়, গত ১৩ অক্টোবর লাওসের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো ১০০ কেজি ওজনের একটি ওষুধের চালান জব্দ করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পাঠানোর প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের অবৈধ চালান দেশের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ওষুধ কোম্পানির কর্মীদের যোগসাজশের অভিযোগ

প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মচারী বেশি মুনাফার আশায় চোরাচালান চক্রটির সঙ্গে যোগসাজশে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।

অভিযানে জব্দ করা ওষুধের ধরন ও পরিমাণ, চোরাচালানের বিস্তৃতি এবং চক্রটির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী।

তদন্ত শেষে ওষুধ সংগ্রহ, প্যাকেজিং, কুরিয়ারের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মীদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ক্যান্সারের ওষুধ চোরাচালানের চেষ্টা, চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেট সময় : ০৩:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ক্যান্সারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ চোরাচালানের অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৩। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও নগদ ৬ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এসব ওষুধ বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এসআরবি-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার) মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।

উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার চারজন

এসআরবি-৩ জানায়, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চীনা নাগরিক লি ফেন (৩৪), রংপুরের বকুল নাহার বিথী (২৪), সাতক্ষীরার ইউনুস আলী (২৬) এবং পটুয়াখালীর সজীব হাওলাদার (২৮)।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়। জব্দ করা ওষুধের আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে।

পর্যটক ভিসায় বারবার বাংলাদেশে আসতেন চীনা নাগরিক

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানের বরাতে এসআরবি-৩ জানায়, চীনা নাগরিক লি ফেন ২০২৪ সালের আগস্টে ৩০ দিনের পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই থেকে তিন দিন আগে তিনি চীনে ফিরে যেতেন। এরপর এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আবার পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন।

অন্যদিকে, গ্রেপ্তার বকুল নাহার বিথী ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের হুনান নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি চীনা ভাষা শেখেন। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন চীনা নাগরিকের সঙ্গে দোভাষী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তদন্তকারীদের ধারণা, চক্রটির কার্যক্রমে ভাষাগত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা ভূমিকা রাখতে পারে।

কুরিয়ারে লাওসসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ পাচার

এসআরবি-৩-এর তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া ওষুধ বিদেশে পাঠিয়ে বেশি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছিল। এ জন্য সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করা হতো। লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব ওষুধ পাঠানো হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

বিশেষ করে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এই চোরাচালানের তালিকায় ছিল। চক্রটির সদস্যরা ২৪ থেকে ২৫ কেজি ওষুধ কার্টনে ভরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাতেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।

লাওসে জব্দ হয় ১০০ কেজি ওষুধের চালান

এসআরবি-৩ জানায়, গত ১৩ অক্টোবর লাওসের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো ১০০ কেজি ওজনের একটি ওষুধের চালান জব্দ করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পাঠানোর প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের অবৈধ চালান দেশের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ওষুধ কোম্পানির কর্মীদের যোগসাজশের অভিযোগ

প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মচারী বেশি মুনাফার আশায় চোরাচালান চক্রটির সঙ্গে যোগসাজশে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।

অভিযানে জব্দ করা ওষুধের ধরন ও পরিমাণ, চোরাচালানের বিস্তৃতি এবং চক্রটির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী।

তদন্ত শেষে ওষুধ সংগ্রহ, প্যাকেজিং, কুরিয়ারের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মীদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।