ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেকারি পণ্যে পচা ডিম, জরিমানা ১ লাখ টাকা
- আপডেট সময় : ০৬:১৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পচা ও খাওয়ার অনুপযোগী ডিম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বেকারি পণ্য তৈরির অভিযোগে এশিয়া বেকারির মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে ডিমের দুর্গন্ধ দূর করার পর সেগুলো খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযানে উঠে এসেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘরের এলহামপাড়ায় অবস্থিত এশিয়া বেকারিতে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের প্রমাণ পায় অধিদপ্তর।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী।
বিশেষ রাসায়নিক দিয়ে দূর করা হতো পচা ডিমের দুর্গন্ধ
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এশিয়া বেকারিতে পচা ও খাওয়ার অনুপযোগী ডিম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এসব ডিম সংগ্রহ করা হতো। পরে বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে ডিমের দুর্গন্ধ দূর করার পর সেগুলো বেকারির খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হতো।
খাদ্যপণ্য তৈরিতে এ ধরনের ডিম ব্যবহার ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে বেকারির তৈরি খাবার নিয়মিত শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ খেয়ে থাকেন। ফলে খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিযোগ স্বীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন মালিক
অভিযান চলাকালে বেকারির মালিক অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করে তিনি মুচলেকা দেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হবে বলে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে।
খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তায় নজরদারির গুরুত্ব
খাদ্যপণ্যে অনিরাপদ ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। তাই বেকারি ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি মানসম্মত কাঁচামাল ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ক্রেতাদেরও খাদ্যপণ্যের মান, উৎপাদন ও মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে কেনাকাটা করার বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
























