গভীর রাতে শ্বশুর-শাশুড়িকে বাড়ি পৌঁছে দিল কুমিল্লা পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৪:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬৩৮ বার পড়া হয়েছে
রাতের গভীরে রাজশাহী থেকে কুমিল্লার বিশ্বরোডে পৌঁছানো এক নারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে কুমিল্লা পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা বাড়ির গেটের ভেতরে নিরাপদে প্রবেশ করা পর্যন্ত সড়কে অপেক্ষা করেন পুলিশ সদস্যরা। তাঁদের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে পরিবারটি।
গভীর রাতে বিশ্বরোডে পৌঁছান নারী
জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজশাহী থেকে কুমিল্লার বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান ওই নারী। এ সময় সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি। গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের সেখানে অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসে পুলিশ।
পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। এরপর নিজেদের গাড়িতে করে পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন পুলিশ সদস্যরা।
বাড়ির গেটের ভেতরে প্রবেশ করা পর্যন্ত অপেক্ষা
পুলিশের দায়িত্বশীলতা শুধু পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা বাড়ির গেটের ভেতরে সবাই নিরাপদে প্রবেশ করেছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে সড়কে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।
গভীর রাতে অপরিচিত পরিবেশে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সুযোগ থাকলেও পুলিশ সদস্যদের এমন সহযোগিতামূলক আচরণ পরিবারটির জন্য স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে। তাঁদের এই আন্তরিকতা উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা পরিবারের
এ ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে কুমিল্লা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে পরিবারটি। তাঁদের ভাষ্য, গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের এমন দায়িত্বশীল আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করে।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুলিশের এমন মানবিক ও জনবান্ধব আচরণ সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁদের আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ দেখে উন্নত দেশগুলোর নাগরিকবান্ধব পুলিশি সেবার কথা মনে হয়েছে।
মানবিক পুলিশি সেবায় বাড়ে জনআস্থা
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিপদের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াও পুলিশি সেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে গভীর রাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে পুলিশের এমন সহযোগিতা মানুষের মনে স্বস্তি জোগায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক আচরণ ও পেশাদারিত্বের সমন্বয় পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবারটির পক্ষ থেকে কুমিল্লা পুলিশের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিকতা, পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব আচরণের এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।






















