টানা ৮ দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি
- আপডেট সময় : ০৩:৪৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম টানা আট দিন বন্ধ থাকতে যাচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিরতি থাকবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সাময়িক স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
১৮ ও ১৯ অক্টোবর সচল থাকবে বেনাপোল বন্দর
ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ অংশে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। এ সময় পণ্য ওঠানো-নামানো, খালাস ও শুল্কায়নের কাজ চলবে।
তবে দুই দেশের ছুটির সময়সূচির কারণে সামগ্রিক পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে বিরতি তৈরি হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ছুটি শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিদিন পরিবহন হয় প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য এই বন্দর দিয়ে পরিবহন করা হয়।
শিল্পকারখানার কাঁচামাল, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয় ভারত থেকে। ফলে দীর্ঘ সময় বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ছুটির আগে ও পরে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। এতে পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং বন্দরে পণ্যজট তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি আমদানি করা পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে।
পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক
আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বেনাপোল-পেট্রাপোল পথে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে প্রতিদিন এ পথে প্রায় তিন হাজার যাত্রী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বাধা থাকবে না। নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করতে পারবেন।
তবে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ সময়ে যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পণ্যজট এড়াতে প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কয়েক দিনের বিরতিতে বন্দরে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ছুটির আগে ও পরে পণ্য খালাস, শুল্কায়ন এবং ট্রাক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, ছুটির মধ্যে পণ্য খালাস ও শুল্কায়ন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে। ২৫ অক্টোবর সকালে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।






















