জামালপুরে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
‘একসঙ্গে, আরও শক্তিশালী—জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব করি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীকে টিকাদানের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। এ উপলক্ষে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। এ সময় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়।
জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সচেতনতার গুরুত্ব
শোভাযাত্রা শেষে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. স্বাগত সাহা, জেলা স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এ রোগের জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। তাই কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণীর কামড় কিংবা আঁচড়ের ঘটনা ঘটলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
তারা বলেন, জলাতঙ্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করলে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই কোনো ধরনের গাফিলতি না করে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
কুকুরকে টিকার আওতায় আনার আহ্বান
বক্তারা জলাতঙ্কের অন্যতম বাহক কুকুরকে টিকাদানের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পোষা প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে মালিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে প্রাণীর মধ্যে জলাতঙ্কের সংক্রমণ কমানো সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তারা।
এ সময় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে শিশুদের পথকুকুর বা অপরিচিত প্রাণীর কাছাকাছি না যাওয়া এবং প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা ঘটলে দ্রুত অভিভাবক ও চিকিৎসককে জানানোর বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসচেতনতা, প্রাণীর টিকাদান এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমিয়ে একটি জলাতঙ্কমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।





















