নভেম্বরের মাঝামাঝি শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ভোট
- আপডেট সময় : ০৩:১২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৯ বার পড়া হয়েছে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর কয়েকটি ধাপে দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
নভেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হবে কার্যক্রম
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এরপর পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে কয়েকটি ধাপে সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একসঙ্গে সব প্রতিষ্ঠানের ভোট আয়োজন না করে ধাপে ধাপে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নির্বাচনী প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করে কাজ করার সুযোগ পাবে কমিশন।
প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন। দেশের অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে আলোচনায় রয়েছে।
ইসি মাছউদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিবিধান এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভোট আয়োজন করা হবে।
আইন পরিবর্তন হলেও নির্বাচন থামবে না
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আইন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন থেকে কমিশন সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন ইসি মাছউদ।
তিনি বলেন, নভেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হলেও নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে ভোট পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন।
অর্থাৎ আইন পরিবর্তনের বিষয়টি নির্বাচন আয়োজনের পথে বাধা হবে না। প্রয়োজনীয় সংশোধন চূড়ান্ত না হলে বর্তমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
কয়েক ধাপে হবে নির্বাচন
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এক ধাপে শেষ করা হবে না। বরং কয়েকটি ধাপে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ভোট আয়োজন করা হবে।
প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এতে প্রতিটি ধাপের নির্বাচনী প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা আলাদাভাবে সমন্বয় করার সুযোগ থাকবে।
ইসি মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশনের কার্যক্রম নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে। নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আইন ও বিধিবিধান মেনেই ভোট
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি ধাপেই সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে। ভোটার তালিকা, নির্বাচনী তফসিল, মনোনয়ন, প্রচার এবং ভোটগ্রহণসহ পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি থেমে থাকবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন হলে সংশোধিত বিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আর তা না হলে বিদ্যমান আইন অনুসরণ করেই ভোট আয়োজন করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করবে কমিশন। নির্বাচনের ধাপ ও সময়সূচি চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার ঘোষণা নির্বাচনী অঙ্গনে নতুন প্রস্তুতির বার্তা দিয়েছে। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই প্রক্রিয়া। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।






















