০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিঙ্গাপুর নেওয়া হলো হাটহাজারীতে আহত সেনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণের সময় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন মির্জাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি বিশেষ মেডিকেল ফ্লাইটে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে বিশেষ মেডিকেল ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের সঙ্গে একজন অ্যাটেনডেন্ট রয়েছেন। এ ছাড়া ফ্লাইটে চিকিৎসক দলের সদস্যরাও ছিলেন। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর তাকে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনা

গত ৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলছিল। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সেখানে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের অনুশীলন করা হচ্ছিল।

এ সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় সেনাবাহিনীর আরও দুই সদস্য নিহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই আহত সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়।

বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর

ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে বিশেষ মেডিকেল ফ্লাইটে তাকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়।

ফ্লাইটে চিকিৎসক দলের সদস্যরা থাকায় পুরো যাত্রাপথে তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নিহত দুই সেনাসদস্য

হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জের ওই দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন। তারা হলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।

দুর্ঘটনার পর তাদের মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় নেওয়া হয়। পরে সামরিক মর্যাদায় তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সহকর্মীদের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত

এদিকে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।

ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটি, প্রশিক্ষণগত বিষয় কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের দ্রুত সুস্থতার জন্য সহকর্মী ও স্বজনরা প্রত্যাশা করছেন। সিঙ্গাপুরে বিশেষায়িত চিকিৎসার মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সিঙ্গাপুর নেওয়া হলো হাটহাজারীতে আহত সেনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিনকে

আপডেট সময় : ১১:২৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণের সময় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন মির্জাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি বিশেষ মেডিকেল ফ্লাইটে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে বিশেষ মেডিকেল ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের সঙ্গে একজন অ্যাটেনডেন্ট রয়েছেন। এ ছাড়া ফ্লাইটে চিকিৎসক দলের সদস্যরাও ছিলেন। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর তাকে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনা

গত ৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলছিল। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সেখানে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের অনুশীলন করা হচ্ছিল।

এ সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় সেনাবাহিনীর আরও দুই সদস্য নিহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই আহত সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়।

বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর

ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে বিশেষ মেডিকেল ফ্লাইটে তাকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়।

ফ্লাইটে চিকিৎসক দলের সদস্যরা থাকায় পুরো যাত্রাপথে তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নিহত দুই সেনাসদস্য

হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জের ওই দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন। তারা হলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।

দুর্ঘটনার পর তাদের মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় নেওয়া হয়। পরে সামরিক মর্যাদায় তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সহকর্মীদের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত

এদিকে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।

ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটি, প্রশিক্ষণগত বিষয় কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের দ্রুত সুস্থতার জন্য সহকর্মী ও স্বজনরা প্রত্যাশা করছেন। সিঙ্গাপুরে বিশেষায়িত চিকিৎসার মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।