ভূমধ্যসাগরীয় পথে ইউরোপে অনিয়মিত প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা
- আপডেট সময় : ০৫:২৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার ৩৫ শতাংশ কমেছে। এ সময় প্রায় ৭৫ হাজার এমন ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ভূমধ্যসাগরের প্রধান দুটি অভিবাসনপথে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর একটি।
ইউরোপের সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
কমেছে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, শুধু আগস্টে প্রায় ১০ হাজার ৭০০টি অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার শনাক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৮ শতাংশ কম।
সাধারণত গ্রীষ্মকাল ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসনের ব্যস্ত সময়। তবে চলতি বছর এ সময়েও পারাপারের সংখ্যা কমেছে। ফ্রন্টেক্সের মতে, অংশীদার দেশগুলোর সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাস্থলে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কারণে নৌযাত্রা কমেছে।
এদিকে নতুন ‘প্যাক্ট অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম’ ব্যবস্থার অধীনে এটিই ছিল প্রথম পূর্ণ গ্রীষ্মকাল। নতুন ব্যবস্থায় ইইউর বহির্সীমান্তে অভিবাসীদের যাচাইয়ে একক ও মানসম্মত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে বাংলাদেশিরা
প্রথম আট মাসে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথ ছিল সবচেয়ে ব্যস্ত অভিবাসনপথ। এ পথে ২৪ হাজার ২০০-এর বেশি অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৫ শতাংশ কম।
আগস্টে এ পথে প্রায় ৩ হাজার পারাপারের ঘটনা শনাক্ত হয়। এ পথে শনাক্ত হওয়া অভিবাসীদের প্রধান জাতীয়তার মধ্যে ছিলেন আফগান, সুদানি ও বাংলাদেশি নাগরিক।
মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথেও শীর্ষে বাংলাদেশিরা
মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জনের ইউরোপে প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা কমেছে ৫৫ শতাংশ।
এ পথে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অভিবাসী লিবিয়া থেকে যাত্রা করেছেন। এরপর ছিল আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া।
ফ্রন্টেক্স জানায়, এ পথে শনাক্ত হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশি, সোমালি ও আলজেরীয় নাগরিকের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানি অব্যাহত
অনিয়মিত প্রবেশের সংখ্যা কমলেও প্রাণহানি কমেনি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছেন।
ফ্রন্টেক্স বলছে, মানব পাচারকারী চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও চলাচলের অনুপযোগী নৌকায় মানুষকে সমুদ্রে পাঠাচ্ছে। ফলে আবহাওয়া ও পরিস্থিতি নির্বিশেষে অভিবাসীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় পথে উল্টো চিত্র
অন্যদিকে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় পথে অনিয়মিত প্রবেশ বেড়েছে। প্রথম আট মাসে এ পথে প্রায় ১৫ হাজার ৯০০টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৪ শতাংশ বেশি।
এ পথে আলজেরিয়া প্রধান যাত্রাস্থল। বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ ও স্পেনের মূল ভূখণ্ড ছিল প্রধান গন্তব্য।
তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতা অঞ্চলে ব্যাপক প্রবেশের ঘটনা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অধিকাংশ ব্যক্তি নিবন্ধন ছাড়াই মরক্কোতে ফিরে যাওয়ায় এ ঘটনার চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন বলে জানিয়েছে ফ্রন্টেক্স।
ইংলিশ চ্যানেলেও কমেছে পারাপারের চেষ্টা
ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের প্রচেষ্টাও কমেছে। প্রথম আট মাসে এ ধরনের প্রায় ২৬ হাজার ৬০০টি চেষ্টা শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৪৩ শতাংশ কম।
তবে গ্রীষ্মকালে পারাপারের চেষ্টা তুলনামূলক বেশি ছিল। মানব পাচারকারী চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বহনে সক্ষম নৌকা ব্যবহার করছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি নৌকায় ১৬৫ জনকে বহন করতে দেখা যায়।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বহির্সীমান্তে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কর্মকর্তা মোতায়েন রয়েছেন। তারা সীমান্ত সুরক্ষা ও সমুদ্রে মানুষের জীবন রক্ষায় জাতীয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছেন।






















