আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও স্ত্রী হামিদার দাপট, হুমকি-ধমকির অভিযোগ; নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি
জুলাই হত্যা মামলার পলাতক আসামির ছত্রছায়ায় জমি দখলের চেষ্টা!
- আপডেট সময় : ০৬:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৯৯ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে আলোচিত মানিক হত্যা মামলার ৩৫ নম্বর আসামি ও পলাতক জাহাঙ্গীর আলম ওরফে শাহিনকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই আসামি কীভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন—তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, পলাতক শাহিনের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তার স্ত্রী শামসুন্নাহার ওরফে হামিদা খাতুন রংপুর মহানগরীর তাজহাট মৌজায় পোশাক রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী পরিবারের মালিকানাধীন জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখলে রাখার চেষ্টা করছেন। আদালতের আদেশের পরও জমিতে প্রবেশ ও দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে জমির মালিক মোহাম্মদ আকবর (৬০) তাজহাট থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেছেন।
জিডি ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে খরিদসূত্রে অর্জিত তাজহাট মৌজার পাঁচটি দাগে মোট ১৩৩ শতাংশ জমির মালিক মোহাম্মদ আকরাম ও মোহাম্মদ আকবর। সর্বশেষ ডিপি খতিয়ান অনুযায়ী জমিটির মালিকানা তাদের নামে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জমির বিপরীতে নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন তারা।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে জমিতে কোনো সীমানাপ্রাচীর না থাকার সুযোগ নিয়ে পলাতক জাহাঙ্গীর আলম শাহিন ও তার স্ত্রী হামিদা খাতুন জমির প্রায় তিন শতাংশ অংশে একটি ঘর নির্মাণ করে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এমনকি ওই স্থানে আইপি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নজরদারিও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জমি নিয়ে বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। আকবরের দাবি, বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে দায়ের করা এমআর-৩৯২/২৩ মামলায় আদালত তাকে জমির ভোগদখল অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রতিপক্ষের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেছেন। আদালতের নির্দেশের পর তাজহাট থানা পুলিশ সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নোটিশ জারি করে।
কিন্তু অভিযোগ, আদালতের এমন নির্দেশের পরও থামেনি দখলের চেষ্টা।
জিডিতে আকবর অভিযোগ করেন, গত ১৬ জুন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি তার ভাতিজা আদনান আকরামকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধীয় জমিটি দেখতে গেলে হামিদা খাতুন তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি আদনান আকরামকে ধাক্কা দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, যেকোনো মূল্যে জমিটি দখলে নেওয়া, রাতের আঁধারে সেখানে চালাঘর নির্মাণ এবং প্রয়োজনে বাইরে থেকে লোকজন এনে জমির মালিক ও তার স্বজনদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
আকবরের দাবি, জমির প্রকৃত মালিকরা সেখানে গেলেই হামিদা খাতুনের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ছেন। তার পেছনে পলাতক জাহাঙ্গীর আলম শাহিনের প্রভাব কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম শাহিনও ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় তার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় পরে তিনি আদালতে হাজির হয়ে জরিমানা দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন বলে দাবি আকবরের।
এদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধের তদন্তে হুমকি ও অবৈধ দখলের বিষয় উঠে আসার পর পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, একদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানিক হত্যা মামলার মতো গুরুতর মামলায় আসামি হয়ে একজন ব্যক্তি পলাতক, অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে থাকা এসব অভিযোগের মধ্যেও কীভাবে তার প্রভাব-প্রতিপত্তি বহাল থাকে? আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বিরোধীয় জমিতে দখলের চেষ্টা হলে তা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন জমির মালিকরা।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ আকবর বলেন, আদালতের আদেশের পরও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভবিষ্যতে জমি নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্টদের ওপর বর্তাবে, এ কারণেই তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শামসুন্নাহার ওরফে হামিদা খাতুন কিংবা পলাতক জাহাঙ্গীর আলম শাহিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, মানিক হত্যা মামলার আসামি ও সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আলম সাহেবকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


























