০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে আবেগাপ্লুত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। তবে এ জন্য দেশকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

শহিদ ও আহতদের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়

জাদুঘর পরিদর্শন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে যেন আর কোনোদিন এমন মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।

জাদুঘরে ঐতিহাসিক বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন

জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।

পরে দর্শনার্থীর টিকিট নিয়ে জাদুঘরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ধাপের চিত্র দেখেন।

এ সময় দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে শহিদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল এবং রেপ্লিকা আয়নাঘরও পরিদর্শন করেন তিনি।

বিভিন্ন গণহত্যা ও নির্যাতনের স্মৃতি দেখেন

জুলাই জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রপতি।

শহিদদের চিঠি, স্মারক ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হন। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি পরিদর্শন করেন।

পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি। চলচ্চিত্রটি দেখার সময়ও তাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান

রাষ্ট্রপতি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও জানান।

পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে আবেগাপ্লুত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। তবে এ জন্য দেশকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

শহিদ ও আহতদের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়

জাদুঘর পরিদর্শন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে যেন আর কোনোদিন এমন মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।

জাদুঘরে ঐতিহাসিক বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন

জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।

পরে দর্শনার্থীর টিকিট নিয়ে জাদুঘরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ধাপের চিত্র দেখেন।

এ সময় দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে শহিদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল এবং রেপ্লিকা আয়নাঘরও পরিদর্শন করেন তিনি।

বিভিন্ন গণহত্যা ও নির্যাতনের স্মৃতি দেখেন

জুলাই জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রপতি।

শহিদদের চিঠি, স্মারক ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হন। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি পরিদর্শন করেন।

পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি। চলচ্চিত্রটি দেখার সময়ও তাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান

রাষ্ট্রপতি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও জানান।

পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।