যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার হুমকি ইরানের
- আপডেট সময় : ০১:০০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে সম্প্রতি একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের শীর্ষ নির্বাহী ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়ী। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন।
নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টেও বিষয়টি তুলে ধরেন রেজায়ী। তিনি বলেন, সম্প্রতি ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
রেজায়ী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাবে পারস্য উপসাগরজুড়ে অবরোধের পরিধি পর্যন্ত একটি সামুদ্রিক প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের অভিযানগত অবস্থান নতুন করে সাজানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাসেম বসির ক্ষেপণাস্ত্র
রেজায়ী যে ‘নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের’ কথা বলেছেন, সেটি কাসেম বসির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
ইরান কাসেম বসিরকে উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে প্রচার করে আসছে। দেশটির দাবি, এটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে আঘাত হানতে সক্ষম। ইলেকট্রনিক যুদ্ধের বিরুদ্ধেও এর দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা কার্যকর বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রথমবার কাসেম বসির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ঘিরে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কমছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপও তেহরানের জন্য বাড়ছে।
অন্যদিকে ভিন্নমত পোষণকারী বিশ্লেষকদের দাবি, মার্কিন বিমান হামলা ও অর্থনৈতিক চাপ ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও আইআরজিসি এখনো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।
সূত্র: রয়টার্স




















