গুতেরেসের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক, আজ ইউএনজিএ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ
- আপডেট সময় : ১২:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনের আগে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব গ্রহণের আগে মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠককে বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে সাধারণ পরিষদের নতুন অধিবেশনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন
এর আগে সোমবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয়। ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে শুভেচ্ছা জানায় মিশন।
একই সঙ্গে নতুন দায়িত্ব পালনে তার সাফল্য কামনা করা হয়। এই দায়িত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন খলিলুর রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় তিনি অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পুরো অধিবেশন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বক্তব্য এবং সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমও সভাপতির দায়িত্বের আওতায় থাকবে।
চার দশক পর বাংলাদেশের নেতৃত্ব
খলিলুর রহমান জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে আবারও বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ইউএনজিএর ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
তার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ থেকে আর কেউ এই পদে দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ দেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন
ইউএনজিএর সভাপতির পদটি জাতিসংঘ ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরিতেও সভাপতির ভূমিকা থাকে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুদ্ধ, শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ কারণে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিকের এই দায়িত্ব গ্রহণ দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবারও একজন বাংলাদেশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ায় এটি বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণেরও একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন অধিবেশনে থাকবে নানা বৈশ্বিক ইস্যু
ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশন ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশাও রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সংঘাত, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা বিষয় সাধারণ পরিষদের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
এ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য কমানো, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউএনজিএর সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে তার এই নতুন আন্তর্জাতিক দায়িত্বের মেয়াদ। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল ফোরামগুলোর একটি পরিচালনায় বাংলাদেশের সরাসরি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।





















