অপচিকিৎসার অভিযোগে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
অপচিকিৎসা ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগে চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠি অনুযায়ী, গত ৫ মে অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ একটি লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে অপচিকিৎসা এবং অননুমোদিত সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
অভিযোগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার পদ্ধতি ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
এরপর অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্তের উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন—
- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান।
- বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুরজাহান বানু।
- বারডেম হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মতামত দেবে কমিটি
চিঠিতে তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের পর অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে। এরপর তদন্তের ফলাফল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে জমা দেওয়া হবে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।
এদিকে চিকিৎসা ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে কোনো অনিয়ম বা অননুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে যাচাই করা হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


























