অর্থ সাশ্রয়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অপ্রয়োজনীয় মহড়া বন্ধ
- আপডেট সময় : ১২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে
অর্থ সাশ্রয়ের জন্য ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রশিক্ষণ ও সামরিক মহড়া কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এবং শিগগির কোনো নির্দিষ্ট অভিযানে মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে না—এমন ইউনিটগুলোর সম্মিলিত প্রশিক্ষণ কমানো হবে।
তবে বিদেশে মোতায়েন থাকা বা মোতায়েনের প্রস্তুতিতে থাকা সেনাদের প্রশিক্ষণ চালু থাকবে। এস্তোনিয়া, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ও সাইপ্রাসে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত ইউনিটগুলোও এর আওতায় থাকবে।
আর্থিক চাপের কারণে সিদ্ধান্ত
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সামরিক প্রশিক্ষণে এই কাটছাঁটের মূল কারণ অর্থনৈতিক চাপ। কিছু প্রশিক্ষণকে আপাতত ‘থাকলে ভালো হয়’ ধরনের প্রশিক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ওয়েলসে রয়্যাল ট্যাংক রেজিমেন্টের সরাসরি গুলি ছোড়ার প্রশিক্ষণ বাতিল করা হয়েছে। ট্যাংক ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার নিয়ে আরেকটি মহড়াও বাতিল হয়েছে।
চলবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে নেওয়া হয়নি। চলতি বছরের বেশিরভাগ সময় এই বিরতি থাকতে পারে। তবে সেনাবাহিনীকে আধুনিক করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ চালু থাকবে। এর মধ্যে ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধে যুদ্ধের কৌশল অনুশীলনও রয়েছে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের প্রতিটি অনুরোধ আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বাজেটে চাপ
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সরকার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করলেও সব বিনিয়োগের অর্থ জোগাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চাপের মধ্যে রয়েছে। নতুন বরাদ্দের বড় অংশ নির্দিষ্ট মূলধনী প্রকল্প ও অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে। ফলে প্রশিক্ষণ খাতের বাজেটে চাপ তৈরি হয়েছে।
সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু আছে এবং যেসব প্রশিক্ষণ সরাসরি প্রস্তুতি, মোতায়েনের সক্ষমতা ও সামরিক কার্যকারিতায় বেশি অবদান রাখে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৫ বছরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় ২০০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এরপর ব্যয় আরও কীভাবে বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা জানানো হয়নি।
























