০২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশি নিরাপত্তার আদেশ ব্যবহার করে আবাসন ব্যবসা, রিট খারিজ হাইকোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৬৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার পূর্বাচলে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, ওই রিটের মাধ্যমে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দীর্ঘদিন ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অভিযোগও শুনানিতে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ তথ্য জানান। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

২০১১ সালে নিরাপত্তা চেয়ে রিট

মামলার নথি অনুযায়ী, প্রবাসীদের অর্থায়নে পূর্বাচলে আবাসন ব্যবসা শুরু করে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুহিদুর রহমান এবং চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানিটি নিবন্ধিত হয়।

প্রকল্পের নিরাপত্তা ও বাস্তবায়নে বাধা দূর করার দাবিতে ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিট করে প্রতিষ্ঠানটি। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ২৫ জুলাই আদালত নরসিংদী সদর ও রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চার মাসের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনগত সুরক্ষা দিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।

১৫ বছর ধরে চলেছে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, চার মাসের জন্য দেওয়া ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পরে সময়ে সময়ে বাড়ানো হয়। এভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি ওই আদেশের আওতায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।

মামলার জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ রিটকারীর বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে। শুনানিতে তারা দাবি করে, হাইকোর্টের চার মাসের আদেশকে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, প্রকল্পটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্প এবং এর আইনগত অনুমোদন ও নিবন্ধন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

জালিয়াতি ও জমি দখলের অভিযোগ

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করে, প্রকল্পের পরিচালকদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও মিথ্যা নথির মাধ্যমে বিভিন্ন মৌজায় কৃষকদের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় প্রকল্পটির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব পরিস্থিতির মধ্যেও ২০১১ সালের হাইকোর্টের আদেশ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা সুবিধা নিয়ে আসছিল। এমনকি গ্রেপ্তার এড়াতেও আদেশটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে শুনানিতে অভিযোগ করা হয়।

রুল খারিজ

রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে রিটের মাধ্যমে প্রতারণামূলকভাবে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগে রিটকারীকে জরিমানা করার আবেদনও জানানো হয়।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির বলেন, চার মাসের জন্য নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রায় ১৫ বছর ধরে বর্ধিত করে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করেছে। শুনানিতে আদেশটির অপব্যবহারের বিষয়গুলো তুলে ধরার পর আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পুলিশি নিরাপত্তার আদেশ ব্যবহার করে আবাসন ব্যবসা, রিট খারিজ হাইকোর্টে

আপডেট সময় : ১২:০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার পূর্বাচলে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, ওই রিটের মাধ্যমে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দীর্ঘদিন ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অভিযোগও শুনানিতে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ তথ্য জানান। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

২০১১ সালে নিরাপত্তা চেয়ে রিট

মামলার নথি অনুযায়ী, প্রবাসীদের অর্থায়নে পূর্বাচলে আবাসন ব্যবসা শুরু করে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুহিদুর রহমান এবং চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানিটি নিবন্ধিত হয়।

প্রকল্পের নিরাপত্তা ও বাস্তবায়নে বাধা দূর করার দাবিতে ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিট করে প্রতিষ্ঠানটি। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ২৫ জুলাই আদালত নরসিংদী সদর ও রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চার মাসের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনগত সুরক্ষা দিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।

১৫ বছর ধরে চলেছে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, চার মাসের জন্য দেওয়া ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পরে সময়ে সময়ে বাড়ানো হয়। এভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি ওই আদেশের আওতায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।

মামলার জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ রিটকারীর বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে। শুনানিতে তারা দাবি করে, হাইকোর্টের চার মাসের আদেশকে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, প্রকল্পটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্প এবং এর আইনগত অনুমোদন ও নিবন্ধন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

জালিয়াতি ও জমি দখলের অভিযোগ

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করে, প্রকল্পের পরিচালকদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও মিথ্যা নথির মাধ্যমে বিভিন্ন মৌজায় কৃষকদের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় প্রকল্পটির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব পরিস্থিতির মধ্যেও ২০১১ সালের হাইকোর্টের আদেশ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা সুবিধা নিয়ে আসছিল। এমনকি গ্রেপ্তার এড়াতেও আদেশটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে শুনানিতে অভিযোগ করা হয়।

রুল খারিজ

রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে রিটের মাধ্যমে প্রতারণামূলকভাবে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগে রিটকারীকে জরিমানা করার আবেদনও জানানো হয়।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির বলেন, চার মাসের জন্য নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রায় ১৫ বছর ধরে বর্ধিত করে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করেছে। শুনানিতে আদেশটির অপব্যবহারের বিষয়গুলো তুলে ধরার পর আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছেন।