০৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধের ভয়াবহতা আর শান্তির বার্তা বয়ে আনে কুমিল্লার ময়নামতি

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৬০৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের মাটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি কোনো বড় যুদ্ধ না হলেও কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি আজও সেই রক্তক্ষয়ী সময়ের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সবুজে ঘেরা শান্ত পরিবেশে সারি সারি সমাধিফলক যেন মনে করিয়ে দেয় যুদ্ধের ভয়াবহতা, আর মানবজাতির জন্য শান্তির অপরিহার্যতার কথা।

১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মিত্রবাহিনীর সঙ্গে জাপানি বাহিনীর তীব্র লড়াই হয়। ওই সংঘাতে প্রাণ হারান প্রায় ৪৫ হাজার কমনওয়েলথ সেনা। নিহত সেনাদের স্মৃতি সংরক্ষণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে গড়ে তোলা হয় বেশ কয়েকটি ওয়ার সিমেট্রি। এর মধ্যে অন্যতম কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি।

১৩ দেশের সেনাদের শেষ ঠিকানা

প্রায় চার একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে একসময় সমাহিত ছিলেন যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, রোডেশিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকাসহ মোট ১৩ দেশের ৭৩৭ জন সৈনিক।

তবে গত বছরের নভেম্বরে জাপানের ২৪ সেনার দেহাবশেষ স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পর বর্তমানে এখানে সমাহিত রয়েছেন ৭১৩ জন সৈনিক। তাঁদের প্রত্যেকের সমাধিফলক বহন করছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একেকটি ইতিহাস।

নীরব সমাধিফলকে যুদ্ধের স্মৃতি

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রির পরিবেশ শান্ত ও মনোরম। চারপাশের সবুজ, ছায়াঘেরা পথ আর পরিচ্ছন্ন সমাধিক্ষেত্র দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু সারি সারি সমাধিফলকের সামনে দাঁড়ালে সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই ফুটে ওঠে যুদ্ধের নির্মমতার ছবি।

একেকটি সমাধিফলক যেন একেকটি অসমাপ্ত জীবনের গল্প। বয়স, দেশ ও পরিচয় আলাদা হলেও যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ হারানো এসব মানুষের শেষ ঠিকানা হয়েছে একই ভূমিতে।

প্রতিবছর স্মরণসভা

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে প্রতিবছর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণসভা। এতে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বাংলাদেশি নাগরিকরা অংশ নিয়ে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

স্মরণসভায় যুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করার পাশাপাশি শান্তি ও মানবতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

কান্ট্রি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আব্দুর রাহিম সবুজ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে বহু বছর আগে। কিন্তু ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি আজও সেই সময়ের স্মৃতি বহন করছে। এখানে আসা মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা উপলব্ধি করার পাশাপাশি শান্তির প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেন।

ইতিহাসের সাক্ষী ময়নামতি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা এখন ইতিহাসের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বদলে গেলেও ময়নামতির এই সমাধিক্ষেত্র সেই ইতিহাসকে ধরে রেখেছে। এখানে নীরব সমাধিফলকগুলো যেন মানুষের প্রতি একটাই বার্তা দেয়—যুদ্ধ কখনোই মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না।

প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্যের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি তাই শুধু একটি সমাধিক্ষেত্র নয়; এটি যুদ্ধের ভয়াবহতা, মানবিক মূল্য এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার এক জীবন্ত স্মারক।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যুদ্ধের ভয়াবহতা আর শান্তির বার্তা বয়ে আনে কুমিল্লার ময়নামতি

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের মাটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি কোনো বড় যুদ্ধ না হলেও কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি আজও সেই রক্তক্ষয়ী সময়ের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সবুজে ঘেরা শান্ত পরিবেশে সারি সারি সমাধিফলক যেন মনে করিয়ে দেয় যুদ্ধের ভয়াবহতা, আর মানবজাতির জন্য শান্তির অপরিহার্যতার কথা।

১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মিত্রবাহিনীর সঙ্গে জাপানি বাহিনীর তীব্র লড়াই হয়। ওই সংঘাতে প্রাণ হারান প্রায় ৪৫ হাজার কমনওয়েলথ সেনা। নিহত সেনাদের স্মৃতি সংরক্ষণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে গড়ে তোলা হয় বেশ কয়েকটি ওয়ার সিমেট্রি। এর মধ্যে অন্যতম কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি।

১৩ দেশের সেনাদের শেষ ঠিকানা

প্রায় চার একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে একসময় সমাহিত ছিলেন যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, রোডেশিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকাসহ মোট ১৩ দেশের ৭৩৭ জন সৈনিক।

তবে গত বছরের নভেম্বরে জাপানের ২৪ সেনার দেহাবশেষ স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পর বর্তমানে এখানে সমাহিত রয়েছেন ৭১৩ জন সৈনিক। তাঁদের প্রত্যেকের সমাধিফলক বহন করছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একেকটি ইতিহাস।

নীরব সমাধিফলকে যুদ্ধের স্মৃতি

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রির পরিবেশ শান্ত ও মনোরম। চারপাশের সবুজ, ছায়াঘেরা পথ আর পরিচ্ছন্ন সমাধিক্ষেত্র দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু সারি সারি সমাধিফলকের সামনে দাঁড়ালে সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই ফুটে ওঠে যুদ্ধের নির্মমতার ছবি।

একেকটি সমাধিফলক যেন একেকটি অসমাপ্ত জীবনের গল্প। বয়স, দেশ ও পরিচয় আলাদা হলেও যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ হারানো এসব মানুষের শেষ ঠিকানা হয়েছে একই ভূমিতে।

প্রতিবছর স্মরণসভা

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে প্রতিবছর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণসভা। এতে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বাংলাদেশি নাগরিকরা অংশ নিয়ে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

স্মরণসভায় যুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করার পাশাপাশি শান্তি ও মানবতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

কান্ট্রি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আব্দুর রাহিম সবুজ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে বহু বছর আগে। কিন্তু ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি আজও সেই সময়ের স্মৃতি বহন করছে। এখানে আসা মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা উপলব্ধি করার পাশাপাশি শান্তির প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেন।

ইতিহাসের সাক্ষী ময়নামতি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা এখন ইতিহাসের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বদলে গেলেও ময়নামতির এই সমাধিক্ষেত্র সেই ইতিহাসকে ধরে রেখেছে। এখানে নীরব সমাধিফলকগুলো যেন মানুষের প্রতি একটাই বার্তা দেয়—যুদ্ধ কখনোই মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না।

প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্যের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি তাই শুধু একটি সমাধিক্ষেত্র নয়; এটি যুদ্ধের ভয়াবহতা, মানবিক মূল্য এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার এক জীবন্ত স্মারক।