ভারত সিরিজ নিয়ে আশাবাদী তামিম
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে আশার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে সিরিজটি আয়োজন সম্ভব হয়নি।
সিরিজটি পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন তামিম। বরং নতুন সময় বের করে সিরিজটি আয়োজনের চেষ্টা করছে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড।
জনপ্রিয় ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম ‘নট আউট নোমান’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ—দুই বোর্ডই সিরিজটি আয়োজন করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘এটা (ভারত সিরিজ) হবে না—এমন সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। একটা তথ্য দিই, দুই বোর্ডই চাইছে এটা হোক। বিসিসিআই ও বিসিবি দুই পক্ষই খুব আন্তরিক। আমরা সময়ের সুযোগ খুঁজছি, কখন এটা করা যায়, কোন সময়ে সম্ভব—সেটা নিয়ে আলোচনা করছি।’
ব্যস্ত সূচির মধ্যেও চলছে আলোচনা
তামিম জানান, দুই দলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে নতুন সময় বের করা সহজ নয়। বাংলাদেশের সামনে ইতোমধ্যে একাধিক সিরিজ রয়েছে। একইভাবে ভারতও বছরজুড়ে ব্যস্ত সূচির মধ্যে রয়েছে। তবে দুই বোর্ডের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা চলছে।
তামিম বলেন, ‘কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমি কখনোই সেই সীমা অতিক্রম করতে চাই না। তবে আমাদের উদ্দেশ্য ইতিবাচক। নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে, তারিখ নিয়েও আলোচনা চলছে।’
মূলত ২০২৪ সালে সিরিজটি হওয়ার কথা ছিল। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেটি স্থগিত হয়। পরবর্তীতে নতুন সূচি করা হলেও নির্ধারিত সময়ে সিরিজ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়েও তামিমের আক্ষেপ
এদিকে ২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন তামিম। তার মতে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি আরও ভালোভাবে আলোচনা ও দর-কষাকষির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা যেত।
ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলা মোস্তাফিজুর রহমানকে ২০২৬ সালের আসরের আগে দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
তামিম বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টি আমরা আরও ভালোভাবে আলোচনা করতে পারতাম। মোস্তাফিজের বিষয়টি নিয়ে পুরো দেশই হতাশ হয়েছিল। আমি তখনও বলেছিলাম, আজও বলছি—এটা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। এটা কোনোভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না।’
‘বিশ্বকাপের মঞ্চ হাতছাড়া করা উচিত হয়নি’
বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তামিম।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল, তখন দেশের প্রতিটি মানুষ যেভাবে উদযাপন করেছিল, সেটি আমরা ভুলতে পারি না। এখন হয়তো প্রতি দুই বছর পরপর বা চার বছর পরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়। কিন্তু এটি বিশ্বকাপ, যেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করবে।’
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার সময় অনেক কিছু ঘটেছিল বলেও জানান তামিম। তবে আইসিসির সদস্য হিসেবে দায়িত্বের কারণে সেসব বিষয় প্রকাশ্যে বলতে চান না তিনি।
তামিম বলেন, ‘আমি এখন আইসিসির সদস্য। বিসিবির কারণেই আমি আইসিসির সদস্য। সেই আলোচনার সময় অনেক কিছু বলা ও করা হয়েছিল। আমি যদি সেগুলো প্রকাশ্যে বলি, আপনারা অবাক হবেন। কিন্তু আমি সেগুলো বলতে পারব না। কারণ আমাকে সেই সম্মানটা বজায় রাখতে হবে।’
তার মতে, বাইরে থেকে কোনো পরিস্থিতি বিচার করা এবং আলোচনার টেবিলে থাকা ব্যক্তিদের কাছে থাকা তথ্য এক নয়। তাই পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ বিষয়টি আরও সতর্ক ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সামলাতে পারত।
























