হরমুজে জাহাজ চলছে মাত্র ৫ জাহাজ
- আপডেট সময় : ০১:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫২৯ বার পড়া হয়েছে
বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় সপ্তাহান্তে প্রণালিটি দিয়ে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল কমে দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমেছে।
নিরাপত্তাঝুঁকিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর বেশিরভাগই ছিল তুলনামূলক ছোট আকারের। এর মধ্যে দুটি ছিল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজিবাহী জাহাজ।
তবে দৃশ্যমান চলাচলের সংখ্যা কম হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রণালি দিয়ে পার হওয়া জাহাজের সংখ্যা কিছুটা বেশি হতে পারে। কারণ নিরাপত্তার কারণে কিছু জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস বন্ধ রেখে চলাচল করছে।
এর আগে শুক্রবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মোট ১৪টি জাহাজ চলাচল করেছিল। এর মধ্যে একটি ছিল বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ। জাহাজটিতে কাতারের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেই সেটি প্রণালি পার হয়।
হামলার ঘটনায় বাড়ছে আতঙ্ক
হরমুজে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা শিপিং খাতে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। গত শনিবার প্রণালির ভেতরের দিকে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার আগে গত কয়েক সপ্তাহেও হরমুজ ও এর আশপাশে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলা বা হামলার আশঙ্কার মুখে পড়েছে। ফলে জাহাজ মালিক ও অপারেটররা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রণালিটি দিয়ে চলাচল সীমিত করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় নতুন উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে থাকা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন ব্যবহারের সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


























