তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই
- আপডেট সময় : ০৫:২৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কোনো অপরাধের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংস্থাটি।
তবে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট নন মামলার বাদী ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া। তিনি প্রতিবেদনটির বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
কীভাবে শুরু হয় শাড়িকাণ্ড
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তার সাবেক ড্রাইভারের মাধ্যমে আয়েশাহর কাছ থেকে একটি শাড়ি নেন। বাদীর দাবি, শাড়িটির মূল্য ছিল ৭৫ হাজার টাকা। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা দেন বাদী। তবে তদন্তে মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিশা ওই বার্তাগুলো দেখেননি।
পরে শাড়ি ফেরতের উদ্যোগ
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর বাদী আবার শাড়িটি ফেরত চেয়ে তিশাকে মেসেজ করেন। জবাবে তিশা শাড়িটির বিষয়ে জানতে চান। পরে শাড়িটির ছবি পাঠানো হলে তিশা বিষয়টি মনে করার চেষ্টা করেন এবং খুঁজে দেখে জানাবেন বলে জানান।
তিশার দাবি, তার সাবেক ড্রাইভার শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়েই চাকরি ছেড়ে চলে যান। এ কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন তার অজানা ছিল।
পরে শাড়ি ফেরত দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাবার্তা ও মনোমালিন্য হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বাদী।
পিবিআইয়ের তদন্তে যা উঠে এসেছে
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তানজিন তিশা শাড়িটি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেন। মামলার বিষয়টি জানার পর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তিনি ডাকযোগে শাড়িটি বাদীর কাছে পাঠান।
পিবিআই জানায়, তদন্তের সময় বাদীকে অভিযোগের পক্ষে দালিলিক প্রমাণ দিতে বলা হলেও তিনি কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে তিশা শাড়িটি ফেরত দিয়েছেন।
এসব কারণে শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে মত দিয়েছে পিবিআই।
হুমকির অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। তিশার পাঠানো মেসেজে শাড়ি ফেরতের ঠিকানা জানতে চাওয়া এবং বাদীর সুন্দর জীবন কামনা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নারাজি আবেদন করবেন বাদী
মামলার বাদী আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া অভিযোগ করেন, তিনি সাক্ষী ও হুমকির অডিও রেকর্ডিংসহ বিভিন্ন প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছেন। কিন্তু সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় জানান, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে শুনানি হবে। ওই দিনই পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করা হবে।
আইনজীবীর আশা, আদালত সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেবেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অবশ্য বলা হয়েছে, বাদী ও বিবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিশার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এখন আদালতে নারাজি আবেদনের শুনানির পর মামলাটির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে।


























