০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরব-পাকিস্তান-তুরস্কের জোটকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ। তবে এই জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা।

তবে চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আমন্ত্রণ এলে বিষয়টি বিবেচনা করবে ঢাকা

ড. খলিলুর রহমান বলেন, চুক্তিভুক্ত দেশগুলো যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায়, তখন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, কোনো দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আগ্রহ প্রকাশের পরই বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে। তখন দেশের নিরাপত্তা, কৌশলগত স্বার্থ এবং বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জাতীয় স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচনা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা জোটে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, কৌশলগত স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে চায় না। বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৭ আগস্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি

এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তিন দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর সম্ভাব্য পরিধি ও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে কি না, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে কোনো পক্ষের সঙ্গে প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার আগে এর সম্ভাব্য প্রভাব, সুবিধা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হবে।

এখনই যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান অনুযায়ী, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখলেও এখনই এতে যোগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এলে তখন দেশের জাতীয় স্বার্থের আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ, আপাতত জোটটির কার্যক্রম ও সদস্যদেশগুলোর অবস্থান পর্যবেক্ষণেই গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই থাকবে প্রধান বিবেচনা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সৌদি আরব-পাকিস্তান-তুরস্কের জোটকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৫:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ। তবে এই জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা।

তবে চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আমন্ত্রণ এলে বিষয়টি বিবেচনা করবে ঢাকা

ড. খলিলুর রহমান বলেন, চুক্তিভুক্ত দেশগুলো যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায়, তখন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, কোনো দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আগ্রহ প্রকাশের পরই বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে। তখন দেশের নিরাপত্তা, কৌশলগত স্বার্থ এবং বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জাতীয় স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচনা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা জোটে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, কৌশলগত স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে চায় না। বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৭ আগস্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি

এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তিন দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর সম্ভাব্য পরিধি ও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে কি না, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে কোনো পক্ষের সঙ্গে প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার আগে এর সম্ভাব্য প্রভাব, সুবিধা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হবে।

এখনই যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান অনুযায়ী, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখলেও এখনই এতে যোগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এলে তখন দেশের জাতীয় স্বার্থের আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ, আপাতত জোটটির কার্যক্রম ও সদস্যদেশগুলোর অবস্থান পর্যবেক্ষণেই গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই থাকবে প্রধান বিবেচনা।