০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৭১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জমিদার আমলের এই অনন্য স্থাপনাটি হারাতে বসেছে তার সৌন্দর্য ও অস্তিত্ব। অথচ যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে এটি হতে পারত দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।

১৮৭৯ সালে বিদেশি অতিথিদের আবাসনের জন্য ময়মনসিংহের জমিদার সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী নির্মাণ করেন আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল। প্রায় ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই লোহার কুঠিতে ব্যবহার করা হয়েছিল বার্মা থেকে আনা সেগুন কাঠ, লোহা ও ইস্পাত। ১৪টি কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি ছিল তৎকালীন আধুনিক নির্মাণশৈলীর অনন্য নিদর্শন। ভূমিকম্প প্রতিরোধী এ স্থাপনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে গ্রীষ্মে ঠান্ডা ও শীতে উষ্ণ পরিবেশ বজায় থাকত।

ঐতিহাসিক এই ক্যাসেলে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী, লর্ড কার্জন, চিত্তরঞ্জন দাস, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, কামাল পাশা ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

তবে বর্তমানে অযত্নে নষ্ট হচ্ছে ঐতিহ্যের এই স্মারক। ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা। চুরি হয়ে যাচ্ছে লোহার তৈরি বিভিন্ন অংশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলাতেও এখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

পর্যটক বিনয় হোসাইন বলেন, “এই ক্যাসেল ময়মনসিংহের গৌরবের অংশ। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি এসেছেন। কিন্তু বর্তমানে এটি অবহেলায় পড়ে আছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ময়মনসিংহে জমিদার আমলের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে। এসব সংরক্ষণ করা গেলে পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্কুল শিক্ষার্থী ইয়ার মাহামুদ বলেন, “আলেকজান্দ্রার ক্যাসেলের ইতিহাস জানার জন্য এখানে কোনো তথ্যবোর্ড নেই। ফলে নতুন প্রজন্ম এই স্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারছে না।”

পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, “স্থাপনা ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ইতিহাসও ধ্বংস হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় আলেকজান্দ্রার ক্যাসেলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণ শেষে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু হবে।

১৪৭ বছরের পুরোনো এই স্থাপনাটি সংস্কার করে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি ময়মনসিংহবাসীর। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল আবারও ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল

আপডেট সময় : ০২:০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জমিদার আমলের এই অনন্য স্থাপনাটি হারাতে বসেছে তার সৌন্দর্য ও অস্তিত্ব। অথচ যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে এটি হতে পারত দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।

১৮৭৯ সালে বিদেশি অতিথিদের আবাসনের জন্য ময়মনসিংহের জমিদার সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী নির্মাণ করেন আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল। প্রায় ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই লোহার কুঠিতে ব্যবহার করা হয়েছিল বার্মা থেকে আনা সেগুন কাঠ, লোহা ও ইস্পাত। ১৪টি কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি ছিল তৎকালীন আধুনিক নির্মাণশৈলীর অনন্য নিদর্শন। ভূমিকম্প প্রতিরোধী এ স্থাপনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে গ্রীষ্মে ঠান্ডা ও শীতে উষ্ণ পরিবেশ বজায় থাকত।

ঐতিহাসিক এই ক্যাসেলে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী, লর্ড কার্জন, চিত্তরঞ্জন দাস, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, কামাল পাশা ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

তবে বর্তমানে অযত্নে নষ্ট হচ্ছে ঐতিহ্যের এই স্মারক। ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা। চুরি হয়ে যাচ্ছে লোহার তৈরি বিভিন্ন অংশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলাতেও এখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

পর্যটক বিনয় হোসাইন বলেন, “এই ক্যাসেল ময়মনসিংহের গৌরবের অংশ। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি এসেছেন। কিন্তু বর্তমানে এটি অবহেলায় পড়ে আছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ময়মনসিংহে জমিদার আমলের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে। এসব সংরক্ষণ করা গেলে পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্কুল শিক্ষার্থী ইয়ার মাহামুদ বলেন, “আলেকজান্দ্রার ক্যাসেলের ইতিহাস জানার জন্য এখানে কোনো তথ্যবোর্ড নেই। ফলে নতুন প্রজন্ম এই স্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারছে না।”

পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, “স্থাপনা ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ইতিহাসও ধ্বংস হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় আলেকজান্দ্রার ক্যাসেলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণ শেষে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু হবে।

১৪৭ বছরের পুরোনো এই স্থাপনাটি সংস্কার করে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি ময়মনসিংহবাসীর। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল আবারও ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব।