তোলারাম কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৫
- আপডেট সময় : ০৫:২৩:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে তা কলেজ রোড, চাষাড়া, জামতলা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষের পর দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। এরপরও কলেজ রোড, চাষাড়া, জামতলা ও কালিরবাজার এলাকায় ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীকে লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল করতে দেখা যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ জানায়, কলেজ অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা চলাকালে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের কিছু নেতাকর্মীর হাতে লাঠিসোঁটা, বাঁশ ও লোহার পাইপ দেখা যায়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি ইমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ছাত্রদলের কর্মী তুহিন আহমেদ ও রবিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি অমিত হাসান দাবি করেন, তাদের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তার অভিযোগ, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন।
অন্যদিকে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলোচনা সভায় ছাত্রশিবিরের নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিলে আপত্তি জানানো হয়। এরপর শিবিরের নেতাকর্মীরাই ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে তাদের দুই কর্মী আহত হন।
সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আলোচনা সভা শেষে কলেজ গেটের বাইরে সংঘর্ষের খবর পান। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি ও দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন, তবে কারও আঘাত গুরুতর নয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।





















