০৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

শেরপুরের পাহাড়ি জনপদের অর্থকরী ফল লটকন এখন সারাদেশের বাজারে

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লটকন মানেই নরসিংদীর ফল– এককালের এমন পরিচিতি ছাপিয়ে এখন বাজার মাতাতে উঠে আসছে শেরপুরও। একসময়ের অপ্রচলিত ফল হিসেবে অবহেলিত লটকন এখন শেরপুর জেলার পাহাড়ি জনপদে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা একটি লটকন বাগান ঘিরে যেমন বাড়ছে উদ্যোক্তার আয়, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় কর্মসংস্থানেরও। লটকন চাষের সাফল্য অভাব ঘোচাচ্ছে অনেক পরিবারের।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামের উদ্যোক্তা– ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহ। নরসিংদীতে চাচার লটকন বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০৭ সালে ৬৫ শতক জমিতে রোপণ করেন লটকনের চারা। দীর্ঘ পরিচর্যার পর ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয় উৎপাদন ও বাণিজ্যিকভাবে লটকন বিক্রি।

৬৫ শতক জমিজুড়ে রয়েছে ৫১টি লটকন গাছ। চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছেই হয়েছে বাম্পার ফলন। আর এবছর বাগান থেকে এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার লটকন। গতবছরও এই বাগান থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করেন তিনি। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় টক-মিষ্টি এই ফলের চাহিদাও বেশ ভালো। পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই কিনে নিয়ে যান।

শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্পই নয়, এই বাগান ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে প্রচুর কর্মসংস্থানেরও। পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, ফল সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে নিয়মিত কাজ করছেন এলাকার অনেক শ্রমিক। এই আয়ে ভালোই চলছে তাদের সংসার।

রাসায়নিকমুক্ত লটকনের বাগান দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করে অনেকে ছবি ও সেলফি তুলছেন। পাশাপাশি লটকন চাষে বাড়ছে তাদের আগ্রহ।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এই অঞ্চলের উঁচু বেলে-দোআঁশ মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আগ্রহীদের কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে এই ফল চাষ আরও সম্প্রসারণ করতে চায় কৃষি বিভাগ।

কৃষিবিদদের মতে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও লাভজনক এই ফলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে, শেরপুরের পাহাড়ি অঞ্চলের পতিত জমির ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান, শক্তিশালী হবে স্থানীয় অর্থনীতি।

 

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শেরপুরের পাহাড়ি জনপদের অর্থকরী ফল লটকন এখন সারাদেশের বাজারে

আপডেট সময় : ০৩:০১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

লটকন মানেই নরসিংদীর ফল– এককালের এমন পরিচিতি ছাপিয়ে এখন বাজার মাতাতে উঠে আসছে শেরপুরও। একসময়ের অপ্রচলিত ফল হিসেবে অবহেলিত লটকন এখন শেরপুর জেলার পাহাড়ি জনপদে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা একটি লটকন বাগান ঘিরে যেমন বাড়ছে উদ্যোক্তার আয়, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় কর্মসংস্থানেরও। লটকন চাষের সাফল্য অভাব ঘোচাচ্ছে অনেক পরিবারের।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামের উদ্যোক্তা– ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহ। নরসিংদীতে চাচার লটকন বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০৭ সালে ৬৫ শতক জমিতে রোপণ করেন লটকনের চারা। দীর্ঘ পরিচর্যার পর ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয় উৎপাদন ও বাণিজ্যিকভাবে লটকন বিক্রি।

৬৫ শতক জমিজুড়ে রয়েছে ৫১টি লটকন গাছ। চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছেই হয়েছে বাম্পার ফলন। আর এবছর বাগান থেকে এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার লটকন। গতবছরও এই বাগান থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করেন তিনি। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় টক-মিষ্টি এই ফলের চাহিদাও বেশ ভালো। পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই কিনে নিয়ে যান।

শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্পই নয়, এই বাগান ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে প্রচুর কর্মসংস্থানেরও। পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, ফল সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে নিয়মিত কাজ করছেন এলাকার অনেক শ্রমিক। এই আয়ে ভালোই চলছে তাদের সংসার।

রাসায়নিকমুক্ত লটকনের বাগান দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করে অনেকে ছবি ও সেলফি তুলছেন। পাশাপাশি লটকন চাষে বাড়ছে তাদের আগ্রহ।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এই অঞ্চলের উঁচু বেলে-দোআঁশ মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আগ্রহীদের কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে এই ফল চাষ আরও সম্প্রসারণ করতে চায় কৃষি বিভাগ।

কৃষিবিদদের মতে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও লাভজনক এই ফলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে, শেরপুরের পাহাড়ি অঞ্চলের পতিত জমির ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান, শক্তিশালী হবে স্থানীয় অর্থনীতি।