মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার ‘তাগিদ’ নেতানিয়াহুর
- আপডেট সময় : ১০:৪৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৬ বার পড়া হয়েছে
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চাইছেন ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ হয়। আলোচনায় ইরান পরিস্থিতি এবং দেশটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মার্কিন সূত্র আলোচনাটিকে ‘প্রত্যক্ষ’ বলে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সূত্র একে ‘কঠিন’ আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইরান নিয়ে কী আলোচনা হলো ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর?
রোববার (১ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ইরান।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে ঘিরে মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগোচ্ছে। দেশটির সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফলে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে এক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলার বিষয়ে তিনি ট্রাম্পকে তাগিদ দিয়েছেন।
তেহরানে কূটনৈতিক তৎপরতা
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি পাওয়ার দাবি করেছেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি।
এ ছাড়া কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে। এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন ও জ্বালানি সংকটে চাপে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখেও রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ তাঁর প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
প্রায় আট মাস ধরে চলা ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সামরিক চাপ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের চাপ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। তাই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর আগে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা যাচাই করতে চাইছে ওয়াশিংটন।
















