নবজাতকের শরীরেও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, সাধারণ রোগেই বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি
- আপডেট সময় : ০২:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / ১৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
ছয় মাসের কম বয়সী এমনকি নবজাতক শিশুর শরীরেও মিলছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। যে কারণে সাধারণ উপসর্গ নিয়েও বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু আইসিইউ ইনচার্জ ডাক্তার মোস্তফা কামাল নুপুরের গবেষণায় উঠে এসেছে এমন চিত্র। গবেষণা বলছে, অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে শুধু এর মাধ্যমেই নয়, প্রাকৃতিকভাবেও সৃষ্টি হচ্ছে সংকট। যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সই আগামীতে সৃষ্টি করবে মারাত্মক মৃত্যুঝুঁকি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাস ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু আইসিইউতে পরিচালিত হয় এই গবেষণা। গবেষনা কালে চিকিৎসাধীন ৪৯ শিশুর শরীর থেকে সংগ্রহ করা হয় নমুনা। গবেষনায় দেখা যায় শিশুদেহে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী অধিকাংশ জীবাণুই প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গবেষণায় শনাক্ত হওয়া ৩০টি গ্রাম-নেগেটিভ ও ১৯টি গ্রাম-পজিটিভ জীবাণুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি কমপ্লেক্স।
শুধু এন্টিবায়োটিক সেবনই নয় হাঁস-মুরগি মাছ গবাদি পশু কৃষিজ অব্যবস্থাপনার কারণেও এসব সংকট। সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করতে না পারলে ভয়াবহ পরিস্থিতি আসতে যাচ্ছে বলে মনে করেন গবেষক।
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন না করা এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলেই শিশুসহ মানদেহে সৃষ্টি হচ্ছে এসব সংকট।
শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি বড় মাধ্যম যখন অ্যান্টিবায়োটিক, তখন সেই অ্যান্টিবায়োটিকই কমাচ্ছে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। কাজেই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি, সেবন ও প্রানীদেহে প্রয়োগে অধিক সতর্ক হতে হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
























