১২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডেই বিদায় জোকোভিচ, কাঁদতে কাঁদতে ছাড়লেন কোর্ট

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৩২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চার ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের লড়াইয়ে শারীরিক সমস্যায় ভুগেও ম্যাচ চালিয়ে যান ২৪ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী সার্বিয়ান তারকা। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার মারিয়ানো নাভোনের কাছে হেরে ইউএস ওপেন থেকে বিদায় নেন তিনি।

শারীরিক সমস্যায় শুরু থেকেই অস্বস্তি

ইউএস ওপেনে ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন রাত কাটালেন নোভাক জোকোভিচ। চার ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের দীর্ঘ লড়াইয়ে একের পর এক শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েও ম্যাচ চালিয়ে যান ৩৯ বছর বয়সী এই সার্বিয়ান কিংবদন্তি। শেষ পর্যন্ত মারিয়ানো নাভোনের কাছে ৭-৬ (৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ গেমে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই জোকোভিচকে অস্বস্তিতে দেখা যায়। প্রথম সেটে ২-০ গেমে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্দ্রতার কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। ম্যাচের একপর্যায়ে একাধিকবার বমি করেন এবং ভারসাম্য ধরে রাখতেও সমস্যায় পড়েন।

ক্র্যাম্প, ব্যথা নিয়েও লড়াই

ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে বেসলাইনের পেছনে দাঁড়িয়ে হাঁপাতে দেখা যায় জোকোভিচকে। পরে পেশিতে টান, ক্র্যাম্প, পিঠ ও কাঁধের ব্যথাও দেখা দেয়। তবু অভিজ্ঞতা ও দুর্দান্ত সার্ভিংয়ের ওপর ভর করে লড়াই চালিয়ে যান তিনি।

প্রথম সেটে টাইব্রেকারে জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় সেট হারলেও তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচে এগিয়ে যান জোকোভিচ। তবে চতুর্থ সেট থেকেই তার শারীরিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পা ভারী হয়ে আসার পাশাপাশি কমে যায় প্রথম সার্ভের কার্যকারিতা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন নাভোনে।

পঞ্চম সেটে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি জোকোভিচ। শেষ সেটে মাত্র একটি গেম জিতেই ম্যাচ শেষ করেন তিনি।

২০ বছর পর প্রথম রাউন্ডে হার

গ্র্যান্ড স্লামে এটি জোকোভিচের রেকর্ড ৮৪তম অংশগ্রহণ। তবে ক্যারিয়ারে মাত্র তৃতীয়বার কোনো গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ডে হারলেন তিনি। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছিলেন জোকোভিচ। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।

‘অনুভূতিটা ছিল ভয়াবহ’

ম্যাচ শেষে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে জোকোভিচ বলেন, কোর্টে তার অনুভূতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। বমি করার পর শরীরের শক্তি দ্রুত কমে যেতে থাকে। এরপর ক্র্যাম্প, ব্যথা এবং পিঠ ও কাঁধের সমস্যাও দেখা দেয়।

স্বপ্নের জয় নাভোনের

জোকোভিচকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি পেলেন মারিয়ানো নাভোনে। ছোটবেলা থেকেই জোকোভিচকে নিজের আদর্শ মানেন এই আর্জেন্টাইন টেনিস তারকা।

২০১৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোকোভিচকে সমর্থন করে দেওয়া নাভোনের একটি পুরোনো পোস্টও ম্যাচের আগে ভক্তদের নজরে আসে। জোকোভিচের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর নাভোনের বাবা-মাও তাদের ছুটির পরিকল্পনা বাতিল করে নিউইয়র্কে ছুটে আসেন।

শেষ পর্যন্ত সেই বিশেষ ম্যাচে বাবা-মাকে উপহার দিলেন ক্যারিয়ারের স্মরণীয় এক জয়।

চার ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের লড়াই শেষে অবশ্য বিজয়ীর চেয়ে জোকোভিচের শারীরিক দুরবস্থাই বেশি আলোচনায় এসেছে। চোখের জল মুছে কোর্ট ছাড়ার দৃশ্যটি হয়ে থাকল ইউএস ওপেনে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডেই বিদায় জোকোভিচ, কাঁদতে কাঁদতে ছাড়লেন কোর্ট

আপডেট সময় : ১২:০৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

চার ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের লড়াইয়ে শারীরিক সমস্যায় ভুগেও ম্যাচ চালিয়ে যান ২৪ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী সার্বিয়ান তারকা। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার মারিয়ানো নাভোনের কাছে হেরে ইউএস ওপেন থেকে বিদায় নেন তিনি।

শারীরিক সমস্যায় শুরু থেকেই অস্বস্তি

ইউএস ওপেনে ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন রাত কাটালেন নোভাক জোকোভিচ। চার ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের দীর্ঘ লড়াইয়ে একের পর এক শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েও ম্যাচ চালিয়ে যান ৩৯ বছর বয়সী এই সার্বিয়ান কিংবদন্তি। শেষ পর্যন্ত মারিয়ানো নাভোনের কাছে ৭-৬ (৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ গেমে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই জোকোভিচকে অস্বস্তিতে দেখা যায়। প্রথম সেটে ২-০ গেমে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্দ্রতার কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। ম্যাচের একপর্যায়ে একাধিকবার বমি করেন এবং ভারসাম্য ধরে রাখতেও সমস্যায় পড়েন।

ক্র্যাম্প, ব্যথা নিয়েও লড়াই

ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে বেসলাইনের পেছনে দাঁড়িয়ে হাঁপাতে দেখা যায় জোকোভিচকে। পরে পেশিতে টান, ক্র্যাম্প, পিঠ ও কাঁধের ব্যথাও দেখা দেয়। তবু অভিজ্ঞতা ও দুর্দান্ত সার্ভিংয়ের ওপর ভর করে লড়াই চালিয়ে যান তিনি।

প্রথম সেটে টাইব্রেকারে জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় সেট হারলেও তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচে এগিয়ে যান জোকোভিচ। তবে চতুর্থ সেট থেকেই তার শারীরিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পা ভারী হয়ে আসার পাশাপাশি কমে যায় প্রথম সার্ভের কার্যকারিতা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন নাভোনে।

পঞ্চম সেটে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি জোকোভিচ। শেষ সেটে মাত্র একটি গেম জিতেই ম্যাচ শেষ করেন তিনি।

২০ বছর পর প্রথম রাউন্ডে হার

গ্র্যান্ড স্লামে এটি জোকোভিচের রেকর্ড ৮৪তম অংশগ্রহণ। তবে ক্যারিয়ারে মাত্র তৃতীয়বার কোনো গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ডে হারলেন তিনি। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছিলেন জোকোভিচ। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।

‘অনুভূতিটা ছিল ভয়াবহ’

ম্যাচ শেষে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে জোকোভিচ বলেন, কোর্টে তার অনুভূতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। বমি করার পর শরীরের শক্তি দ্রুত কমে যেতে থাকে। এরপর ক্র্যাম্প, ব্যথা এবং পিঠ ও কাঁধের সমস্যাও দেখা দেয়।

স্বপ্নের জয় নাভোনের

জোকোভিচকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি পেলেন মারিয়ানো নাভোনে। ছোটবেলা থেকেই জোকোভিচকে নিজের আদর্শ মানেন এই আর্জেন্টাইন টেনিস তারকা।

২০১৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোকোভিচকে সমর্থন করে দেওয়া নাভোনের একটি পুরোনো পোস্টও ম্যাচের আগে ভক্তদের নজরে আসে। জোকোভিচের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর নাভোনের বাবা-মাও তাদের ছুটির পরিকল্পনা বাতিল করে নিউইয়র্কে ছুটে আসেন।

শেষ পর্যন্ত সেই বিশেষ ম্যাচে বাবা-মাকে উপহার দিলেন ক্যারিয়ারের স্মরণীয় এক জয়।

চার ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের লড়াই শেষে অবশ্য বিজয়ীর চেয়ে জোকোভিচের শারীরিক দুরবস্থাই বেশি আলোচনায় এসেছে। চোখের জল মুছে কোর্ট ছাড়ার দৃশ্যটি হয়ে থাকল ইউএস ওপেনে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত।