আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ
- আপডেট সময় : ১২:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২২ বার পড়া হয়েছে
আজ ৮ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। এতে সাক্ষরতাকে শুধু পড়া, লেখা ও গণনার মৌলিক দক্ষতা হিসেবে দেখা হয়নি। মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশ সচেতনতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবেও সাক্ষরতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমান সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সাক্ষরতা বিস্তারে দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
তবে এখনও একটি বড় জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোর, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী রয়েছে এই তালিকায়।
এ ছাড়া শিক্ষাবঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষকেও সাক্ষরতার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু বর্ণমালা চেনানো নয়, তাদের প্রয়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাংবিধানিক অঙ্গীকার
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূর করার অঙ্গীকার রয়েছে।
এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমেও শিক্ষাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।
রাজধানীসহ দেশজুড়ে কর্মসূচি
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর (বিএনএফই) মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। একই অনুষ্ঠানে ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা’ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার।
এ ছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পর্যায়েও র্যালি, আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম থাকবে।
১৯৬৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস
নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ইউনেস্কো ১৯৬৭ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
এরপর থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এখনও নিরক্ষরতার সঙ্গে লড়াই করা মানুষের প্রতি সচেতনতা বাড়ানোই এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।




















