অফিসের দুপুরের খাবারের সহজ সমাধান ‘ফুডি’
- আপডেট সময় : ০৩:৪৯:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
দুপুর ১টা। মিটিং শেষ হতে হতে লাঞ্চব্রেকের প্রায় অর্ধেকটাই চলে গেছে। পাশের ডেস্ক থেকে কেউ বলছেন বিরিয়ানি খাবেন, আরেকজন চাইছেন ভাতের কোনো মেনু, অন্যদিকে কেউ আবার হালকা কিছু খুঁজছেন। বাইরে গিয়ে রেস্টুরেন্ট বাছাই, খাবার অর্ডার, অপেক্ষা, তারপর আবার অফিসে ফেরা—ব্যস্ত কর্মদিবসে এত হিসাব সব সময় মেলানো যায় না।
এমন সময় ফুডি অ্যাপ থেকে অফিসে খাবার অর্ডার করা একটি সহজ বিকল্প। অফিসের লোকেশন অনুযায়ী বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও মেনু দেখা, নিজের পছন্দ ও বাজেট মিলিয়ে খাবার বেছে নেওয়া এবং ডেস্ক থেকেই অর্ডার সম্পন্ন করা যায়। অফিসের দুপুরের খাবারে এই ছোট সুবিধাটাই অনেক সময় বড় পার্থক্য তৈরি করে।
অফিসের লাঞ্চে সবার পছন্দ এক হয় না
সহকর্মীদের সঙ্গে বাইরে খেতে গেলে একটি রেস্টুরেন্ট ঠিক করতে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা হয়। অফিসে বিষয়টি আরও কঠিন। কেউ দেশি খাবার চান। কেউ বার্গার বা পিৎজা খেতে চান। কারও পছন্দ খিচুড়ি, বিরিয়ানি বা রাইস বোল। আবার কেউ দুপুরে ভারী কিছু না খেয়ে তুলনামূলক হালকা খাবার খুঁজছেন। একটি টিমে পাঁচজন মানুষ থাকলেও পাঁচ ধরনের পছন্দ থাকা খুব স্বাভাবিক।
Foodi-তে দেশি খাবার থেকে শুরু করে পিৎজা, বার্গার, পাস্তা, ফ্রাইড চিকেন ও ডেজার্টসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায়। Foodi-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটিতে ১০,৫০০টির বেশি রেস্টুরেন্ট ও শপ এবং দুই লাখের বেশি আইটেম/SKU যুক্ত রয়েছে। অনলাইনে খাবার অর্ডার সুবিধাও বর্তমানে বাংলাদেশের ২৭টির বেশি জেলায় রয়েছে।
এই বড় পরিসরের সবচেয়ে ব্যবহারিক সুবিধা হলো পছন্দের বৈচিত্র্য। একই অফিসে বসে একজন দেশি খাবার, আরেকজন ফাস্ট ফুড এবং অন্য কেউ হালকা লাঞ্চ বেছে নিতে পারেন। সবার পছন্দ এক না হলেও সিদ্ধান্তটা একই প্ল্যাটফর্ম থেকেই নেওয়া যায়।
আগে বাজেট, তারপর মেনু
অফিস লাঞ্চের সিদ্ধান্ত সহজ করার একটি উপায় হলো প্রথমে বাজেট ঠিক করে নেওয়া। ধরা যাক, একজনের দুপুরের খাবারের বাজেট ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। তাহলে প্রথমেই সেই সীমার মধ্যে কী ধরনের খাবার পাওয়া যাচ্ছে সেটি দেখা যায়। হতে পারে ভাতের মিল। হতে পারে খিচুড়ি। আবার হতে পারে বার্গার, স্যান্ডউইচ বা একটি রাইস বোল।
এরপর নিজের পছন্দ ও ক্ষুধা অনুযায়ী মেনু বেছে নেওয়া যায়। গ্রুপ অর্ডারের সময় বিষয়টি আরও কাজে আসে। পাঁচজন সহকর্মী একসঙ্গে অর্ডার করলে আগে থেকেই প্রত্যেকের সম্ভাব্য বাজেট ও খাবারের ধরন জেনে নিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়। দশটি রেস্টুরেন্ট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করার বদলে কয়েকটি পছন্দের অপশন সামনে রেখেই অর্ডার চূড়ান্ত করা যায়।
কাছাকাছি রেস্টুরেন্ট দিয়ে শুরু করলে সিদ্ধান্ত সহজ
অফিস যদি গুলশান, বনানী, তেজগাঁও, ধানমন্ডি, উত্তরা কিংবা মিরপুরে হয়, তাহলে দুপুরের খাবারের সময় সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোর একটি হলো লোকেশন। অনলাইনে দুপুরের খাবার খোঁজার সময় পুরো শহরের রেস্টুরেন্ট দেখার প্রয়োজন নেই।
Foodi-তে লোকেশন সেট করার পর ব্যবহারকারী নিজের এলাকায় ডেলিভারির জন্য পাওয়া যায় এমন রেস্টুরেন্ট ও খাবারের অপশন দেখতে পারেন। অ্যাপটি নির্দিষ্ট খাবারের নাম ধরেও সার্চ করার সুবিধা দেয়—যেমন বিরিয়ানি বা বার্গার। এতে সিদ্ধান্তটিও সহজ হয়। “কোন রেস্টুরেন্টে যাব?” দিয়ে শুরু না করে “আজ কী খেতে চাই?” দিয়ে শুরু করা যায়।
রবিবার মানেই Foodi Super Sunday
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের লাঞ্চে Foodi যোগ করেছে আলাদা একটি আকর্ষণ—Super Sunday। প্রতি রোববার Foodi-তে নির্বাচিত রেস্টুরেন্ট ও খাবারে থাকে Super Sunday-এর বিশেষ অফার। ক্যাম্পেইন ও অংশগ্রহণকারী রেস্টুরেন্টভেদে এই ছাড় সর্বোচ্চ ৬০% পর্যন্ত যেতে পারে।
Super Sunday এখন Foodi-এর নিয়মিত অফার প্রপার্টিগুলোর একটি। Foodi-এর বর্তমান সেবা তথ্যে Super Sunday-এর পাশাপাশি Flash Deals, Flash Hours এবং রেস্টুরেন্টভিত্তিক ফ্ল্যাট ডিসকাউন্টকেও নিয়মিত ডিল ফরম্যাট হিসেবে দেখানো হয়েছে। অফিস লাঞ্চের ক্ষেত্রে এই আয়োজনটি কাজে লাগতে পারে অন্যভাবেও।
রোববার সকালে সহকর্মীদের সঙ্গে শুধু “আজ কী খাব?” আলোচনা না করে Foodi-তে কোন কোন Super Sunday অফার চলছে, সেটিও দেখে নেওয়া যায়। পছন্দের কোনো রেস্টুরেন্ট বা খাবার অফারে থাকলে সেই অনুযায়ী পুরো টিমের লাঞ্চ পরিকল্পনা করা সম্ভব।
ফলে Super Sunday শুধু ডিসকাউন্ট খোঁজার বিষয় থাকে না; এটি সপ্তাহের একটি আলাদা food occasion হয়ে উঠতে পারে। রবিবার এসেছে, Foodi খোলা হলো, চলমান অফার দেখা হলো এবং সেখান থেকেই দুপুরের খাবার ঠিক হলো।
একই খাবার প্রতিদিন নয়
অফিসে নিয়মিত খাবার অর্ডার করলে বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিরিয়ানি বা বার্গার খাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। একদিন ভাত ও মাংস, আরেকদিন খিচুড়ি, অন্যদিন একটি রাইস বোল, পরের দিন স্যান্ডউইচ—এভাবে খাবারের ধরন বদলালে অফিস লাঞ্চও একঘেয়ে হয় না।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্ট ও মেনু একসঙ্গে দেখা যায় বলে নতুন খাবার খুঁজে পাওয়াও সহজ হয়। Super Sunday, Flash Deal বা কোনো রেস্টুরেন্টের বিশেষ অফার আবার এমন কোনো মেনু ট্রাই করার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যেটি সাধারণ দিনে হয়তো নজরেই আসত না। অফার এখানে শুধু দাম কমানোর বিষয় নয়; নতুন খাবার আবিষ্কারেরও একটি উপলক্ষ।
গ্রুপ লাঞ্চকে সহজ রাখুন
অফিসে খাবার অর্ডারের পরিচিত একটি দৃশ্য হলো—একজনের ফোন ঘিরে সবাই মেনু দেখছেন। তারপর শুরু হয় আলোচনা। “এটা খাব?” “না, ওটা ভালো।” “ওখানে কী অফার আছে?” এই সময়টা কমানোর সহজ উপায় আছে। আগেই তিনটি বিষয় ঠিক করা যায়—প্রতি ব্যক্তির বাজেট, খাবারের ধরন এবং কখন খাবার দরকার।
এরপর Foodi-তে কয়েকটি প্রাসঙ্গিক অপশন দেখে গ্রুপে শেয়ার করা যায়। সবাই নিজের পছন্দ জানালে অর্ডারও দ্রুত চূড়ান্ত হয়। একইভাবে একজন যদি ভারী খাবার চান এবং অন্যজন হালকা কিছু চান, সেক্ষেত্রেও একই রেস্টুরেন্ট থেকে নিতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা অর্ডারও করা যায়।
মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও আছে
ডেলিভারি অর্ডারে কখনো খাবার, পেমেন্ট বা অর্ডারের অবস্থা নিয়ে সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে। Foodi ব্যবহারকারীদের জন্য ইন-অ্যাপ লাইভ চ্যাটের পাশাপাশি মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত কাস্টমার কেয়ার সুবিধাও রেখেছে। Foodi-এর সেবা তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে ১৬২৯৫ নম্বরে কল করে কাস্টমার সাপোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
অফিসের গ্রুপ লাঞ্চে এটি বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে। কারণ একাধিক সহকর্মীর খাবার একসঙ্গে আসার অপেক্ষায় থাকলে কোনো প্রশ্ন বা সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন হয়।
অফিসে অর্ডার মানেই শুধু দুপুর নয়
অফিসে খাবারের প্রয়োজন সব সময় দুপুর ১টাতেই আসে না। সকালের মিটিং দীর্ঘ হলে ব্রেকফাস্ট প্রয়োজন হতে পারে। বিকেলে টিম মিটিংয়ের জন্য স্ন্যাকস বা ডেজার্ট লাগতে পারে। আবার কাজ শেষ হতে দেরি হলে সন্ধ্যা বা রাতের খাবারও অফিসেই অর্ডার করতে হয়। Foodi নির্বাচিত এলাকায় early-morning, late-night এবং express food delivery-ও পরিচালনা করছে।
ফলে অফিসে Foodi ব্যবহারের ক্ষেত্রটি শুধু একটি নির্দিষ্ট লাঞ্চ অর্ডারে আটকে থাকে না। কর্মদিবসের বিভিন্ন সময়ের খাবারের প্রয়োজন একই জায়গা থেকেই মেটানো যায়।
লাঞ্চব্রেকটা থাকুক লাঞ্চের জন্য
অফিসের বিরতি সাধারণত খুব বেশি দীর্ঘ হয় না। সেই সময়ের বড় একটি অংশ যদি রেস্টুরেন্টে যাওয়া, টেবিল পাওয়া, খাবারের অপেক্ষা এবং আবার অফিসে ফিরে আসতে ব্যয় হয়, তাহলে লাঞ্চব্রেক দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
অনলাইনে অফিস খাবার অর্ডারের সবচেয়ে বড় সুবিধা এখানেই। খাবার কোথা থেকে আসবে সেই সিদ্ধান্তটি ডেস্কেই নেওয়া যায়। বাজেট দেখা যায়। মেনু তুলনা করা যায়। Super Sunday কিংবা চলমান অন্য অফার দেখা যায়। তারপর পছন্দের খাবার অর্ডার করা যায়। অফিসে ব্যস্ত দিনগুলোর জন্য ব্যাপারটি তাই বেশ সরল—কাজের সময় কাজ চলুক, আর লাঞ্চব্রেকটা থাকুক সত্যিকার অর্থেই লাঞ্চ করার জন্য।



























