অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি চরিত্র নির্ধারণ করে না: প্রভা
- আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা মানুষের বিচারপ্রবণতা, ভুল ধারণা এবং কাছের মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলামেলা কথা বলেছেন। একই সঙ্গে অন্যের নেতিবাচক মন্তব্যে ভেঙে না পড়ে নিজের মূল্যবোধ ও আত্মসম্মান ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রভা লেখেন, মানুষ অনেক সময় নিজেদের ধারণার ওপর ভিত্তি করে অন্যের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অথচ সেই ধারণার বড় একটি অংশই বাস্তবতার চেয়ে তাদের নিজস্ব কল্পনা, বিচার-বুদ্ধি কিংবা নিজেদের বড় করে দেখানোর প্রবণতা থেকে তৈরি হয়।
প্রভা বলেন, ‘মানুষ যখন ধারণার বশবর্তী হয়ে আপনার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে বা আপনাকে ‘খারাপ মানুষ’ হিসেবে আখ্যা দেয়, তখন সত্যিই খুব কষ্ট হয়। অথচ তারা যা বিশ্বাস করে, তার ৯০ শতাংশই কেবল তাদের নিজেদের কল্পনা, বিচার-বুদ্ধি কিংবা নিজেদের বড় করে দেখানোর একটা প্রবৃত্তি মাত্র।’
কাছের মানুষদের আচরণে পাওয়া আঘাতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, অনেক সময় যারা একসময় ভালোবাসার ও বিশ্বাসের মানুষ ছিলেন, তারাই নিজেদের ভুল-ত্রুটি ভুলে গিয়ে অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে দ্বিধা করেন না।
তিনি লেখেন, ‘তার চেয়েও বেশি কষ্টদায়ক হলো, যখন তারা খুব সুবিধাজনকভাবে নিজেদের ভুল-ত্রুটিগুলো ভুলে যায়, অথচ আপনাকে নিয়ে কুৎসা রটানোকে নিজেদের অধিকার মনে করে। কখনো কখনো এই মানুষগুলো তারাই যাদের একসময় ভালোবাসতেন এবং বিশ্বাস করতেন।’
প্রভার মতে, এসব মানুষ বন্ধু, পরিবারের সদস্য, সহকর্মী কিংবা প্রাক্তন সঙ্গী—যে কেউ হতে পারেন। আপনজনের কাছ থেকে এমন আচরণ মানসিকভাবে একজন মানুষকে গভীরভাবে আঘাত করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিনেত্রী বলেন, ‘এটি আপনাকে মারাত্মকভাবে ব্যথিত করতে পারে। আপনি হয়তো কিছুদিন নিস্তব্ধ, ভেঙে পড়া কিংবা নিজেকে মূল্যহীনও মনে করতে পারেন।’
তবে এমন পরিস্থিতিতে অন্যের মতামতকে নিজের পরিচয়ের মাপকাঠি না বানানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রভা। তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনাকে নিয়ে অন্য কারও চিন্তাভাবনা বা দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই আপনার চরিত্রকে নির্ধারণ করে না। তাদের ভণ্ডামি, ভুল ধারণা কিংবা নিজেদের ভুল স্বীকার করতে না পারার দায়ভার বহন করা আপনার কাজ নয়।’
প্রভার এই বক্তব্যে নিজের আত্মমর্যাদা ধরে রাখা, অন্যের বিচারকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকে শক্ত হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তাই উঠে এসেছে।



























