২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু
- আপডেট সময় : ১২:২১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নতুন চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হবে। এর ফলে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে প্রায় এক বছরের প্রচেষ্টার পর কর্মসংস্থানসংক্রান্ত ইএসডিপি-এমওসি (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চুক্তি চূড়ান্তভাবে সই হয়।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে নতুন চুক্তি
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব সই করেন। অন্যদিকে জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এতে সই করেন।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো এবং জাপানে তাঁদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, অধিকার সংরক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়বে। ফলে সব মিলিয়ে চুক্তিটির মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।
এই চুক্তির মাধ্যমে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নত কর্মপরিবেশে কাজ করার সুযোগও বাড়তে পারে।
কর্মীদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষায় গুরুত্ব
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী চুক্তির সুবিধাগুলো তুলে ধরে বলেন, কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার করা হবে।
তিনি জানান, জাপানে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি কর্মীরা তুলনামূলক ভালো বেতন এবং দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মীদের আইনি অধিকার সংরক্ষণ। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও চুক্তিতে গুরুত্ব পেয়েছে।
নারী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা
চুক্তিতে নারী বিদেশি কর্মীদের অধিকার রক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে কোনো নারী কর্মীর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা কিংবা তাঁকে চাকরিচ্যুত করার সুযোগ রাখা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসবের কারণে নারী কর্মীদের জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যতামূলক বিধান চুক্তিতে রাখা হয়নি। ফলে জাপানে কর্মরত নারী বাংলাদেশিদের কর্মক্ষেত্রে অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা
জাপানে কর্মী নিয়োগের নতুন এ উদ্যোগকে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজার তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে জাপানে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য ভাষাগত দক্ষতা, পেশাগত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং নিয়োগসংক্রান্ত নিয়মকানুন জানা গুরুত্বপূর্ণ হবে। নিয়োগের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, খাতভিত্তিক চাহিদা ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নিরাপদ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের পথ আরও বিস্তৃত হবে।























