হাসপাতাল থেকে সরকারি কোয়ার্টার, ১৩ স্পটে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৫ বার পড়া হয়েছে
সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা এবং ফুটপাত ঘুরে দেখেন। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যেসব স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, দিনের কর্মসূচির শুরুতে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান।
পরবর্তী সময়ে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ঘুরে দেখেন তিনি।
এ ছাড়া নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
দিনের কর্মসূচিতে আরও ছিল ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতের পরিস্থিতিও সরেজমিনে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতায় সাত দিনের সময়
উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন তিনি।
এ জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং হাসপাতালের পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের সেবার মানের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ, হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের সময় চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপানের ঘটনা দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন তিনি। এ সময় কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি দেখে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
হাসপাতালের মতো জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ধূমপানবিরোধী নিয়ম অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শনে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহের সময়
আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শনের সময় পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। আবাসিক এলাকার পরিবেশ উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় দেন তিনি।
সরকারি আবাসিক এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাতের ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
নাগরিক সেবা ও জনস্বাস্থ্যে গুরুত্ব
আকস্মিক পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন স্থানের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচিতে হাসপাতালের পরিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা, সরকারি আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা এবং ফুটপাত ব্যবস্থাপনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
সার্বিকভাবে, রাজধানীর ১৩টি স্থানে এই আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তা পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।


























