স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ না পেয়ে সংসদ ছাড়লেন জামায়াতের এমপিরা
- আপডেট সময় : ১২:১৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিতে সভাপতির পদ না পাওয়ার প্রতিবাদে সংসদ অধিবেশন থেকে বেরিয়ে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। এর কয়েক মিনিট আগে নতুন করে ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটির সবগুলোর সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে বিএনপির সংসদ সদস্যদের।
সভাপতির পদ নিয়ে ক্ষোভ জামায়াতের
নতুন কমিটি গঠনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের আসনসংখ্যার অনুপাতে ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সরকারপক্ষের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়েছিল।
তাহেরের দাবি, কমিটির সদস্যপদে সেই অনুপাত রাখা হলেও সভাপতির পদে তা মানা হয়নি। বিরোধী দলের আসনসংখ্যার অনুপাতে ২৬ শতাংশ সভাপতির পদ পাওয়া তাদের অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে সরকারপক্ষ বিরোধী দলকে ১০টি স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে অনুযায়ী জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছিল।
সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমালোচনা করে তাহের বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার বেপরোয়া হয়ে উঠলে তা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়।
পরবর্তী স্থায়ী কমিটিগুলোও একইভাবে গঠন করা হলে বিরোধী দল সংসদ কক্ষে থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
‘সভাপতির পদ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই’
তাহেরের বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বক্তব্য দেন। এ সময় জামায়াতের এমপিরা সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ আসনসংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলকে দেওয়ার কোনো বিধান বা বাধ্যবাধকতা নেই। বিরোধী দলকে ১০টি সভাপতির পদ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনাও হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সালাহউদ্দিন জানান, জুলাই জাতীয় সনদে সংসদে বিরোধী দলের আসনসংখ্যার অনুপাতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সংবিধান সংশোধন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পর স্থায়ী কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। তখন বিরোধী দল আসনসংখ্যার অনুপাতে সভাপতির পদ পাবে।
নতুন ১০ স্থায়ী কমিটির সভাপতি
বুধবার গঠিত ১০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।
এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি আমান উল্লাহ আমান।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ জি কে গউছ, ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি নাসের রহমান এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন রফিকুল ইসলাম জামাল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। বুধবার নতুন ১০টি কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৫টি স্থায়ী কমিটি গঠিত হলো।























