সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল সরকার
- আপডেট সময় : ০১:০২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭১ বার পড়া হয়েছে
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দ্বীপটিতে প্রতিদিন পর্যটক প্রবেশের অনুমোদিত সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পর্যটন গমনবিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিধিনিষেধের মধ্যে থাকা সেন্টমার্টিনের পর্যটন খাতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
প্রতিদিন ভ্রমণ করতে পারবেন সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক
আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার করা হয়েছে। ফলে পর্যটন মৌসুমে আরও বেশি মানুষ দেশের এই জনপ্রিয় দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। পর্যটকসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্বীপে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়ায় পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিদ্ধান্তে খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরা
সরকারের নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সি ক্রুজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের দ্বীপবাসী এবং পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে এই সিদ্ধান্তে।
এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি সেন্টমার্টিনের পর্যটন খাতের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
দ্বীপের স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও নতুন মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে দ্বীপের মানুষের বড় একটি অংশের জীবিকা নির্ভর করে। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত থাকলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ক্রুজ পরিচালনা এবং অন্যান্য ছোট ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে অনেকেই নিজেদের প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করছেন। রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও গতিশীল হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার তাগিদ
সেন্টমার্টিনের পর্যটন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হলেও দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের মতে, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রবালসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পর্যটকদেরও দ্বীপের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলা জরুরি।
২০২৪ সালে জারি হয়েছিল ১২টি নির্দেশনা
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যে দ্বীপটিতে পর্যটকদের ভ্রমণ নিয়ে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সময় পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে এসব বিধিনিষেধের প্রভাব পড়ে দ্বীপের পর্যটননির্ভর অর্থনীতি ও স্থানীয় মানুষের জীবিকায়। এবার পর্যটকসংখ্যা বাড়ানো এবং রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে পর্যটন সম্প্রসারণের পাশাপাশি সেন্টমার্টিনের পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও পর্যটকদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।





















