শ্যালিকাকে বিয়ে, দুলাভাইকে চুন-কালি মেখে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:২৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৮৫ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁয় প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন মাসুদ রানা (৩৫) নামে এক ব্যক্তি। পরে তাঁর মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের একাংশের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায়। আলোচিত মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী। তাঁর প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর বয়স ২৮ বছর। দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমার বয়স ২১ বছর। পূর্ণিমা তাঁর আপন শ্যালিকা।
প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমোদন নিয়ে পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন মাসুদ রানা। বিয়ের পরপরই নবদম্পতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন। এরপর তাঁদের বিয়ের খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
মাসুদ রানা বদলগাছী উপজেলায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তবে বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের একাংশ তাঁদের ওই বাসায় থাকতে না দেওয়ার কথা জানান বলে জানা গেছে।
ভাড়া বাসা ছেড়ে শ্বশুরবাড়ির পথে
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘরের আসবাবপত্র গুটিয়ে নেন মাসুদ রানা। এরপর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
তবে সেখানেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না বলে জানা গেছে। সোমবার রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়দের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একপর্যায়ে মাসুদ রানার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাঁকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিয়ের কারণ জানালেন মাসুদ রানা
নিজের বিয়ের বিষয়ে মাসুদ রানা জানান, পূর্ণিমার অন্যত্র বিয়ে হলে তাঁদের অতীতে একসঙ্গে তৈরি করা কিছু টিকটক ভিডিও নিয়ে তাঁকে হয়রানির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। এ কারণেই প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন বলে তাঁর দাবি।
তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া এবং ঘটনার অন্যান্য দিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইসলামী বিধানে কী বলা আছে?
এ বিষয়ে ইসলামী বিধানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় আলেম মাওলানা রেজাউল করিম। তিনি জানান, পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা শরিয়তসম্মত নয়। তবে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে অথবা বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে শ্যালিকাকে বিয়ে করা যেতে পারে।
পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
ঘটনাটি নিয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশি বক্তব্য বা আইনগত পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।























