লংমার্চে বাধা দিলে ৬ দফা ১ দফায় পরিণত হবে: নাহিদ ইসলাম
- আপডেট সময় : ১১:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৬ বার পড়া হয়েছে
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে আন্দোলনের ছয় দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
লংমার্চে বাধা না দেওয়ার আহ্বান
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে নতুন করে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করতেই ১১ দলের এই কর্মসূচি। জনগণের অধিকার আদায়েও সবাইকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, লংমার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ছয় দফা দাবি আর ছয় দফায় থাকবে না। এটি এক দফার আন্দোলনে পরিণত হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কর্মসূচিতে দলে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু সমাবেশ
এর আগে সকাল ৭টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। পরে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। নেতারা তাদের বক্তব্যে জোটের বিভিন্ন দাবি ও কর্মসূচির বিষয়ে তুলে ধরেন।
সমাবেশে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন। এরপর নেতাদের বক্তব্য শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চের বহর যাত্রা করার কথা রয়েছে।
ছয় দফা দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ
ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য এই লংমার্চের আয়োজন করেছে। জোটের অন্যতম প্রধান দাবি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন।
পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে তারা। জোটের নেতারা বলছেন, বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে দেশে স্থায়ী গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা কঠিন হবে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনের দাবি রয়েছে। এসব সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন খাতের ওপর চাপ বাড়ছে বলেও দাবি করেছে জোটটি।
একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবি জানানো হয়েছে। বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবি
১১ দলীয় ঐক্যের ছয় দফা দাবির মধ্যে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন চেয়েছে জোটটি।
তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
এ ছাড়া সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিও রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জোটটি।
যেসব পথে যাবে লংমার্চ
শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যাবে। পথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথমে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাক স্ট্যান্ডে পথসভা হবে। এরপর লংমার্চের বহর কুমিল্লার দিকে যাবে।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডেও পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে। পরে ফেনীর মহীপাল এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি পথসভা।
এরপর লংমার্চটি মিরসরাইয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। সেখানে পথসভা শেষে বহর চট্টগ্রাম নগরীর দিকে রওনা হবে।
সবশেষে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
বক্তব্য দেবেন জোটের শীর্ষ নেতারা
লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন। এ সময় কর্মসূচির লক্ষ্য ও দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
পরে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
তাদের বক্তব্যের পর লংমার্চের বহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, কর্মসূচির মাধ্যমে তারা জনগণের দাবি তুলে ধরতে চান। একই সঙ্গে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়ছে। কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।























