রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয়
- আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬২ বার পড়া হয়েছে
দাপ্তরিক যোগাযোগ, সরকারি নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদের আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা জানানো হয়েছে। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ।
দাপ্তরিক ব্যবহারে সম্মানসূচক শব্দ বাদ
পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, কোনো সরকারি চিঠি, পত্র, অফিস আদেশ, নোট, প্রতিবেদন কিংবা অন্য কোনো দাপ্তরিক নথিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদবি উল্লেখ করার সময় পদবির আগে অতিরিক্ত সম্মানসূচক শব্দ যুক্ত করা যাবে না।
এ নির্দেশনার আওতায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী—এই পাঁচ ধরনের পদ রয়েছে। তাদের পদবি সরাসরি ও নির্ধারিত রীতিতে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
সরকারি নথি ও সারসংক্ষেপে প্রযোজ্য
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে সরকারি নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ তৈরির ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নথিতে সংশ্লিষ্ট পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার কথা স্পষ্ট করা হয়েছে।
সরকারি দপ্তরে বিভিন্ন ধরনের চিঠিপত্র, নোট ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি বা সরকারপ্রধানসহ মন্ত্রীদের পদবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যাতে ভিন্নতা না থাকে, সে বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নির্দেশনা
পরিপত্রে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীনস্থ সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ নির্দেশনা অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে অধীনস্থ সরকারি দপ্তরগুলোতেও দাপ্তরিক চিঠিপত্র ও নথি তৈরির সময় একই ধরনের পদবি ব্যবহারের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
সরকারি প্রশাসনে নথিপত্রের ভাষা ও পদবি ব্যবহারে অভিন্নতা আনতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রের নির্দেশনা থেকে জানা যায়।
পদবির আগে থাকবে না অতিরিক্ত বিশেষণ
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবি উল্লেখ করার ক্ষেত্রে পদের আগে আলাদা করে সম্মানসূচক বিশেষণ ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না।
দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে পদ ও দায়িত্বকে প্রাধান্য দিয়ে সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদবি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ নির্দেশনা এখন থেকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরের সরকারি যোগাযোগ এবং নথিপত্রে অনুসরণ করার কথা রয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি দাপ্তরিক নথিতে পদবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।






















