যুবদলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের আভাস : সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে আজিজুর রহমান আকন্দ
- আপডেট সময় : ০৭:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / ১৭৯২ বার পড়া হয়েছে
তিন বছর মেয়াদি কমিটির দুই বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি জাতীয়তাবাদী যুবদল। দীর্ঘদিন ধরে মাত্র সাত সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়ে সংগঠন চলায় পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময়ের পর যুবদলের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আর এই পরিবর্তনের হাওয়ায় যুবদলের আগামী নেতৃত্বে, বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার একেবারে শীর্ষে উঠে এসেছেন ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক তুখোড় নেতা আজিজুর রহমান আকন্দ।
নতুন কমিটিতে পদ পেতে সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবদলের সাবেক শীর্ষ পদধারী একঝাঁক নেতা জোর লবিং-তদবির শুরু করলেও রাজনীতির মাঠে এখন মূল আলোচনা— আজিজুর রহমান আকন্দই হতে যাচ্ছেন যুবদলের অন্যতম শীর্ষ কাণ্ডারি।
দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতা ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) হিসেবেও তিনি নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজপথের পরিচ্ছন্ন ইমেজের কারণে আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদলকে সুসংগঠিত করতে হাইকমান্ড তার ওপরই আস্থা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংগঠনের একাংশ।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সে সময় দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার কথা জানানো হলেও, প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সংগঠনের ভেতরে।
যুবদলের একাধিক নেতার অভিযোগ, এই আংশিক কমিটিকে কেন্দ্র করে বর্তমান সভাপতির একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের দাবি, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংগঠনের অভ্যন্তরে এই একক প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা আরও বেড়েছে।
এদিকে, যখন যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের জোরালো দাবি উঠেছে, ঠিক সেই সময়ে বর্তমান নেতৃত্ব তড়িঘড়ি করে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলছেন নতুন কমিটি প্রত্যাশীরা। যুবদলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১৫১ এবং ২৫১ সদস্যবিশিষ্ট দুটি সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা অনুমোদনের জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে পদপ্রত্যাশী নেতাদের অভিযোগ, এই খসড়া তালিকায় ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বর্তমান আংশিক কমিটির শীর্ষ নেতারা দলের চেয়ে নিজেদের ঘনিষ্ঠ ও অনুসারীদের প্রাধান্য দিয়ে তালিকা তৈরি করেছেন।
শীর্ষ পদগুলোতে আলোচনায় রয়েছেন আরও যারা:
আজিজুর রহমান আকন্দ সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে থাকলেও সভাপতি-সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ পদে আরও বেশ কয়েকজন নেতা আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন— যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, সাবেক ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল, যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদ ইকবাল টিটো, মাহবুবুল হাসান পিংকু, দীপু সরকার, কামরুজ্জামান দুলাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক।
এছাড়া আলোচনায় আরও আছেন— ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সাবেক সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল এবং সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
উৎপাদনমুখী রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সৎ, মেধাবী ও নিঃস্বার্থ যুবকদের সমন্বয়ে আদর্শবান নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপির হাইকমান্ড আজিজুর রহমান আকন্দের মতো পরীক্ষিত নেতাদের হাতেই যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব তুলে দেয় কি না।

























