০৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের চাপেও আত্মসমর্পণ করবে না কিউবা: প্রেসিডেন্ট দিয়াজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র যত চাপই দিক, কিউবা কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। একই সঙ্গে কিউবা অর্থনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

ব্রাজিলের সংবাদপত্র ফোলহা দে এস. পাওলো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। পরে তার বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু

দিয়াজ-কানেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে কিউবার আগ্রহ রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তিনি বলেন, “দমন-পীড়নের পরিস্থিতিতে কোনো সংলাপ হতে পারে না। আমাদের অবশ্যই কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া আলোচনার পথ খুঁজে বের করতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপের অভিযোগ

কিউবার প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কিউবার সরকারকে দুর্বল করতে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। দেশটির অর্থনীতিকে সংকটে ফেলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওয়াশিংটন কিউবার সামনে থাকা সব ধরনের সুযোগ বন্ধ করে দিতে চাইছে।

সংকট থাকলেও পতনের পথে নয় কিউবা

কিউবায় বর্তমানে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও ওষুধের সংকট রয়েছে। তবে দেশটি অর্থনৈতিক পতনের কাছাকাছি রয়েছে—এমন দাবি মানতে নারাজ দিয়াজ-কানেল।

তিনি বলেন, “আমরা একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে আছি। তবে কিউবার জনগণের সৃজনশীলতা ও ঐতিহাসিক সহনশীলতা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

তবে সরকারি আমলাতন্ত্র এবং সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তার মতে, এসব সমস্যার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবরোধও অর্থনৈতিক সংকটের বড় কারণ।

অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ১৫ শতাংশ

ফোলহা দে এস. পাওলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিয়াজ-কানেল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কিউবার অর্থনীতি প্রায় ১৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। দেশটি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তবে সংকট মোকাবিলায় জুন মাসে কিউবার পার্লামেন্ট অনুমোদিত ১৭৬টি অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এসব সংস্কারের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবসা ও বিদেশি বিনিয়োগের ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে।

দিয়াজ-কানেল বলেন, এসব উদ্যোগ কিউবাকে পুঁজিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, বরং সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিউবা তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বশর্ত ছাড়া সংলাপের পথও খোলা থাকবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যুক্তরাষ্ট্রের চাপেও আত্মসমর্পণ করবে না কিউবা: প্রেসিডেন্ট দিয়াজ

আপডেট সময় : ০১:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র যত চাপই দিক, কিউবা কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। একই সঙ্গে কিউবা অর্থনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

ব্রাজিলের সংবাদপত্র ফোলহা দে এস. পাওলো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। পরে তার বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু

দিয়াজ-কানেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে কিউবার আগ্রহ রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তিনি বলেন, “দমন-পীড়নের পরিস্থিতিতে কোনো সংলাপ হতে পারে না। আমাদের অবশ্যই কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া আলোচনার পথ খুঁজে বের করতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপের অভিযোগ

কিউবার প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কিউবার সরকারকে দুর্বল করতে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। দেশটির অর্থনীতিকে সংকটে ফেলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওয়াশিংটন কিউবার সামনে থাকা সব ধরনের সুযোগ বন্ধ করে দিতে চাইছে।

সংকট থাকলেও পতনের পথে নয় কিউবা

কিউবায় বর্তমানে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও ওষুধের সংকট রয়েছে। তবে দেশটি অর্থনৈতিক পতনের কাছাকাছি রয়েছে—এমন দাবি মানতে নারাজ দিয়াজ-কানেল।

তিনি বলেন, “আমরা একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে আছি। তবে কিউবার জনগণের সৃজনশীলতা ও ঐতিহাসিক সহনশীলতা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

তবে সরকারি আমলাতন্ত্র এবং সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তার মতে, এসব সমস্যার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবরোধও অর্থনৈতিক সংকটের বড় কারণ।

অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ১৫ শতাংশ

ফোলহা দে এস. পাওলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিয়াজ-কানেল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কিউবার অর্থনীতি প্রায় ১৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। দেশটি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তবে সংকট মোকাবিলায় জুন মাসে কিউবার পার্লামেন্ট অনুমোদিত ১৭৬টি অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এসব সংস্কারের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবসা ও বিদেশি বিনিয়োগের ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে।

দিয়াজ-কানেল বলেন, এসব উদ্যোগ কিউবাকে পুঁজিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, বরং সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিউবা তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বশর্ত ছাড়া সংলাপের পথও খোলা থাকবে।