ফ্লোরিডায় সড়কে আছড়ে পড়ল ব্যক্তিগত বিমান, নিহত ৯
- আপডেট সময় : ১১:১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি ব্যক্তিগত বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানের ৯ আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে আশপাশের আবাসিক এলাকার বাড়িঘর।
রোববার (১ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাহামাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল বিমানটি
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটি ছিল দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট লিয়ারজেট ৬০ মডেলের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ। এটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। কী কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সড়কে আছড়ে পড়ে, মুহূর্তেই বিস্ফোরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি আকাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাড়াভাবে নিচের দিকে নেমে আসছে। এরপর মিলিটারি ট্রেইল ও টেনথ অ্যাভিনিউ নর্থের সংযোগস্থলের কাছে সড়কে আছড়ে পড়ে।
বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। দুর্ঘটনার পর সড়কের ওপর বড় গর্ত তৈরি হয়। বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পুড়ে কালো হয়ে যায়।
এ সময় আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মাইল দূর থেকেও সেই ধোঁয়া দেখা গেছে। দুর্ঘটনার সময় ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছিল। তবে আশপাশের বাড়িঘর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদ করার কাজ শুরু করেন।
উদ্ধার তৎপরতা ও তদন্তের স্বার্থে আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। সড়কের দুই দিক থেকেই যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিলেন পাইলট
বিমানটির গতিবিধি বিশ্লেষণে অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে বিমানবন্দরের সঙ্গে পাইলটের যোগাযোগের অডিওতে বরফ জমার বিষয়টি উঠে এসেছে। পাইলট প্রথমে বিমানের ওপর হালকা ও স্বচ্ছ বরফ জমার কথা জানান। তবে সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাশাপাশি মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনির কথাও জানান পাইলট। পরে বৃষ্টিপাতের কথা উল্লেখ করে আরও ওপরে ওঠার অনুমতি চান তিনি।
একপর্যায়ে পাইলট জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেন। এরপর বিমানের অতিরিক্ত গতি এবং প্রতি মিনিটে প্রায় ২০ হাজার ফুট নিচে নেমে যাওয়ার তথ্য জানান বলে অডিওর বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
তবে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে।




















