০৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে ৮ বিভাগে কোচ নিয়োগ চূড়ান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর অংশ হিসেবে দেশের আটটি বিভাগে নারী ক্রিকেটের জন্য কোচিং স্টাফ নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত কোচ ও কর্মকর্তারা।

বিসিবির এই উদ্যোগের আওতায় আট বিভাগে পাঁচজন নারী কোচ এবং তিনজন পুরুষ প্রধান কোচ দায়িত্ব পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভাগভিত্তিক সহকারী কোচ ও ম্যানেজারও নির্বাচন করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারী ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সংগঠিত ও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশের নারী ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে এর আগে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল বিসিবি। বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ে নারী ক্রিকেট চালু করা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে নারী কোচ নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। এবার সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে।

সাবেক ক্রিকেটারদের দেওয়া হয়েছে অগ্রাধিকার

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় পর্যায়ে কোচ ও কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক ক্রিকেটার এবং কোচিংয়ের লেভেল-১ সনদধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারও রয়েছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে নারী ক্রিকেটারদের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া প্রধান কোচের পাশাপাশি সহকারী কোচ ও ম্যানেজার নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি বিভাগের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এতে ক্রিকেটারদের নিয়মিত অনুশীলন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং দলীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালনা সহজ হবে।

আট বিভাগে দায়িত্ব পাচ্ছেন যারা

বিসিবি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক কোচিং স্টাফ ও ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যদের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—

ঢাকা বিভাগ

ঢাকা বিভাগের নারী ক্রিকেটের দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনজন। এখানে মাকসুদা লিজা ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধান কোচ হিসেবে থাকছেন রেশমা আক্তার আদুরী। আর সহকারী কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন নাদেজা মুনতাহা।

বরিশাল বিভাগ

বরিশাল বিভাগে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন আখতারুজ্জামান নয়ন। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন মাহমুদুল হায়দার। অন্যদিকে দলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন মুর্শিদা নাজনীন।

চট্টগ্রাম বিভাগ

চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী। কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ ইসমাইল। এ ছাড়া সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন পারমিতা দত্ত।

রংপুর বিভাগ

রংপুর বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন আরিফা জাহান বীথি। তাঁর সঙ্গে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করবেন মুর্শেদা খাতুন সোমা। আর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন মনিকা আক্তার আশা।

খুলনা বিভাগ

খুলনা বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আয়েশা রহমান শুকতারা। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন তাজিয়া আক্তার। এ বিভাগের টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন সুলতানা ইয়াসমিন।

সিলেট বিভাগ

সিলেট বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন আল ওয়াদুদ সুইট। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন শাহনাজ পারভীন। আর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন সেলিনা আক্তার চৌধুরী।

রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহী বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পান্না ঘোষ। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ সান। অন্যদিকে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন ইমরুল কায়েস।

ময়মনসিংহ বিভাগ

ময়মনসিংহ বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন মৃদুল। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন লিলি রানী বিশ্বাস। আর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন সুজন।

নারী ক্রিকেটের ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড় তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় দলের জন্য নিয়মিত প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরি করতে হলে শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বিভাগ, জেলা ও স্কুল পর্যায়ে শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামো।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে কোচ নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান মেয়েদের চিহ্নিত করা এবং তাঁদের ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মেয়ে ক্রিকেট খেলার আগ্রহ থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সুযোগের অভাবে সামনে এগোতে পারেন না। বিভাগীয় পর্যায়ে কোচিং কার্যক্রম চালু হলে তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়বে।

স্কুল ক্রিকেট চালুর উদ্যোগেও বাড়বে সুযোগ

নারী ক্রিকেটের প্রসারে বিসিবির পরিকল্পনার অন্যতম অংশ স্কুল পর্যায়ে ক্রিকেট চালু করা। ছোট বয়স থেকেই মেয়েদের ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত করা এবং নিয়মিত খেলার সুযোগ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

স্কুল ক্রিকেটের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। পরে তাদের বিভাগীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় আনা যেতে পারে। এতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে শুরু করে জাতীয় দল পর্যন্ত খেলোয়াড় তৈরির একটি ধারাবাহিক পথ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় কোচদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাঁরা স্থানীয় পর্যায়ে খেলোয়াড়দের দক্ষতা মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ এবং উন্নতির বিষয়গুলো দেখভাল করতে পারবেন।

জাতীয় দলের জন্য তৈরি হবে নতুন খেলোয়াড়

নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে বিভাগীয় পর্যায়ে কোচ নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গড়ে তুলতে হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিয়মিত খেলোয়াড় উঠে আসা প্রয়োজন।

বিভাগীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হলে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নারী ক্রিকেটে কোচিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।

তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে নিয়োগপ্রাপ্ত কোচদের কার্যক্রম শুরুর সময়, নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর। পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হলে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের তৃণমূল কাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আট বিভাগে কোচিং স্টাফ নিয়োগের মধ্য দিয়ে নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বিসিবি। এখন বিভাগীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই হবে এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ধারণের অন্যতম বিষয়।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে ৮ বিভাগে কোচ নিয়োগ চূড়ান্ত

আপডেট সময় : ০৪:১০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

দেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর অংশ হিসেবে দেশের আটটি বিভাগে নারী ক্রিকেটের জন্য কোচিং স্টাফ নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত কোচ ও কর্মকর্তারা।

বিসিবির এই উদ্যোগের আওতায় আট বিভাগে পাঁচজন নারী কোচ এবং তিনজন পুরুষ প্রধান কোচ দায়িত্ব পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভাগভিত্তিক সহকারী কোচ ও ম্যানেজারও নির্বাচন করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারী ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সংগঠিত ও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশের নারী ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে এর আগে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল বিসিবি। বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ে নারী ক্রিকেট চালু করা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে নারী কোচ নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। এবার সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে।

সাবেক ক্রিকেটারদের দেওয়া হয়েছে অগ্রাধিকার

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় পর্যায়ে কোচ ও কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক ক্রিকেটার এবং কোচিংয়ের লেভেল-১ সনদধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারও রয়েছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে নারী ক্রিকেটারদের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া প্রধান কোচের পাশাপাশি সহকারী কোচ ও ম্যানেজার নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি বিভাগের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এতে ক্রিকেটারদের নিয়মিত অনুশীলন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং দলীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালনা সহজ হবে।

আট বিভাগে দায়িত্ব পাচ্ছেন যারা

বিসিবি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক কোচিং স্টাফ ও ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যদের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—

ঢাকা বিভাগ

ঢাকা বিভাগের নারী ক্রিকেটের দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনজন। এখানে মাকসুদা লিজা ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধান কোচ হিসেবে থাকছেন রেশমা আক্তার আদুরী। আর সহকারী কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন নাদেজা মুনতাহা।

বরিশাল বিভাগ

বরিশাল বিভাগে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন আখতারুজ্জামান নয়ন। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন মাহমুদুল হায়দার। অন্যদিকে দলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন মুর্শিদা নাজনীন।

চট্টগ্রাম বিভাগ

চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী। কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ ইসমাইল। এ ছাড়া সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন পারমিতা দত্ত।

রংপুর বিভাগ

রংপুর বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন আরিফা জাহান বীথি। তাঁর সঙ্গে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করবেন মুর্শেদা খাতুন সোমা। আর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন মনিকা আক্তার আশা।

খুলনা বিভাগ

খুলনা বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আয়েশা রহমান শুকতারা। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন তাজিয়া আক্তার। এ বিভাগের টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন সুলতানা ইয়াসমিন।

সিলেট বিভাগ

সিলেট বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন আল ওয়াদুদ সুইট। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন শাহনাজ পারভীন। আর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন সেলিনা আক্তার চৌধুরী।

রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহী বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পান্না ঘোষ। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ সান। অন্যদিকে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন ইমরুল কায়েস।

ময়মনসিংহ বিভাগ

ময়মনসিংহ বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন মৃদুল। সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন লিলি রানী বিশ্বাস। আর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন সুজন।

নারী ক্রিকেটের ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড় তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় দলের জন্য নিয়মিত প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরি করতে হলে শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বিভাগ, জেলা ও স্কুল পর্যায়ে শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামো।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে কোচ নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান মেয়েদের চিহ্নিত করা এবং তাঁদের ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মেয়ে ক্রিকেট খেলার আগ্রহ থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সুযোগের অভাবে সামনে এগোতে পারেন না। বিভাগীয় পর্যায়ে কোচিং কার্যক্রম চালু হলে তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়বে।

স্কুল ক্রিকেট চালুর উদ্যোগেও বাড়বে সুযোগ

নারী ক্রিকেটের প্রসারে বিসিবির পরিকল্পনার অন্যতম অংশ স্কুল পর্যায়ে ক্রিকেট চালু করা। ছোট বয়স থেকেই মেয়েদের ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত করা এবং নিয়মিত খেলার সুযোগ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

স্কুল ক্রিকেটের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। পরে তাদের বিভাগীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় আনা যেতে পারে। এতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে শুরু করে জাতীয় দল পর্যন্ত খেলোয়াড় তৈরির একটি ধারাবাহিক পথ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় কোচদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাঁরা স্থানীয় পর্যায়ে খেলোয়াড়দের দক্ষতা মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ এবং উন্নতির বিষয়গুলো দেখভাল করতে পারবেন।

জাতীয় দলের জন্য তৈরি হবে নতুন খেলোয়াড়

নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে বিভাগীয় পর্যায়ে কোচ নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গড়ে তুলতে হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিয়মিত খেলোয়াড় উঠে আসা প্রয়োজন।

বিভাগীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হলে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নারী ক্রিকেটে কোচিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।

তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে নিয়োগপ্রাপ্ত কোচদের কার্যক্রম শুরুর সময়, নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর। পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হলে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের তৃণমূল কাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আট বিভাগে কোচিং স্টাফ নিয়োগের মধ্য দিয়ে নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বিসিবি। এখন বিভাগীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই হবে এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ধারণের অন্যতম বিষয়।