দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সার্কুলার জারির নির্দেশ হাইকোর্টের
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
সড়ক দুর্ঘটনাসহ যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবিলম্বে সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ সংশোধন করে দুর্ঘটনায় আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিধান সংযুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিককে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা দিতে হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সার্কুলার জারি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিসান হায়দার।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর সায়দাবাদে ছিনতাইকারীর হামলায় গুরুতর আহত হন খুলনার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম। তাকে নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা না দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিট দায়ের করে। ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেঁচে থাকার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো হাসপাতাল দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দিতে পারে না।
তবে নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আদালত বলেন, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন। তাই এ রায়ে সরাসরি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।
মামলায় স্বাস্থ্য সচিব, আইজিপি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং বিএমডিসির সভাপতিসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়।
























