০১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

জামালপুরে ট্রাকচাপায় এক পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত

জামালপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরের মেলান্দহে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী, স্ত্রী ও তাদের আট মাস বয়সী শিশুকন্যা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী এলাকার মোরশেদ আলম (২৫), তার স্ত্রী ইকরামা (২৩), তাদের আট মাস বয়সী মেয়ে রিফা এবং লিখন আকন্দ।

যেভাবে ঘটল ভয়াবহ দুর্ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে মেলান্দহের শিমুলতলী এলাকা থেকে একটি অটোরিকশা জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে একটি মোটরসাইকেল জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল।

পথে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক প্রথমে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এরপর ট্রাকটি সামনে থাকা অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু মা ও শিশুর

দুর্ঘটনায় মোরশেদ আলম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্ত্রী ইকরামা ও আট মাস বয়সী শিশুকন্যা রিফাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক ও মোটরসাইকেল আরোহীসহ তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহী লিখন আকন্দের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ট্রাক আটক, চালক পলাতক

দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন চালক। তবে স্থানীয় লোকজন মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় ট্রাকটি আটক করেন। এ সময় ট্রাকের চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। প্রথমে তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পরে তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। আটক ট্রাকটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পালিয়ে যাওয়া চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন

একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে আট মাস বয়সী শিশুটির মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।

সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও চালকদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জামালপুরে ট্রাকচাপায় এক পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত

আপডেট সময় : ০১:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জামালপুরের মেলান্দহে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী, স্ত্রী ও তাদের আট মাস বয়সী শিশুকন্যা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী এলাকার মোরশেদ আলম (২৫), তার স্ত্রী ইকরামা (২৩), তাদের আট মাস বয়সী মেয়ে রিফা এবং লিখন আকন্দ।

যেভাবে ঘটল ভয়াবহ দুর্ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে মেলান্দহের শিমুলতলী এলাকা থেকে একটি অটোরিকশা জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে একটি মোটরসাইকেল জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল।

পথে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক প্রথমে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এরপর ট্রাকটি সামনে থাকা অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু মা ও শিশুর

দুর্ঘটনায় মোরশেদ আলম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্ত্রী ইকরামা ও আট মাস বয়সী শিশুকন্যা রিফাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক ও মোটরসাইকেল আরোহীসহ তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহী লিখন আকন্দের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ট্রাক আটক, চালক পলাতক

দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন চালক। তবে স্থানীয় লোকজন মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় ট্রাকটি আটক করেন। এ সময় ট্রাকের চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। প্রথমে তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পরে তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। আটক ট্রাকটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পালিয়ে যাওয়া চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন

একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে আট মাস বয়সী শিশুটির মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।

সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও চালকদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।