চেকের পাওনা শোধ ও আপস হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট
- আপডেট সময় : ১২:১৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লেখিত পুরো টাকা পরিশোধ এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালত বলেছেন, নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় করা চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাগারে পাঠানো নয়। বরং পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করাই এ ধরনের মামলার প্রধান লক্ষ্য।
হাইকোর্টের রায়
এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় করা একটি ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়টি ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।
মামলাটি মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য নামে পরিচালিত হয়। আপিল চলাকালে চেকের পুরো টাকা পরিশোধ এবং ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের সঙ্গে আপস হওয়ায় আদালত তার এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছেন।
তবে আদালত দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। একই সঙ্গে ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা জরিমানা কমিয়ে চেকে উল্লেখিত ২৮ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণ করেছেন।
ঋণ নিয়ে চেক ডিজঅনার
মামলার নথি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল হান্নান মাস্টার ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে তিনি ২১ হাজার ৮৭৫ টাকা পরিশোধ করেন।
বাকি ২৮ হাজার ১২৫ টাকা পরিশোধের জন্য তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সিরাজগঞ্জ শাখার একটি চেক দেন। ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।
পরে আইন অনুযায়ী তাকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়। এরপরও টাকা পরিশোধ না করায় ২০০৯ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
এক বছরের কারাদণ্ড
২০১২ সালে মামলাটি সিরাজগঞ্জের দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য যায়। আসামি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার শেষ হয়।
২০১৩ সালের ১৯ মার্চ আদালত আবদুল হান্নান মাস্টারকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা জরিমানা করা হয়।
এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে ক্রিমিনাল আপিল করেন। ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে এক বছরের জন্য জামিন দেন।
পুরো টাকা পরিশোধ, পরে আপস
আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় হান্নান মাস্টার চেকের বাকি টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে পরিশোধ করেন। চলতি বছরের ২১ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে আপসনামা সই হয়।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, আপিলকারী চেকের পুরো অর্থ পরিশোধ করেছেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতে আগেই ১৪ হাজার ১০০ টাকা জমা দিয়েছিলেন।
হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট আদালতকে ওই ১৪ হাজার ১০০ টাকা যথাযথ শনাক্তকরণের পর ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
কারাদণ্ড বাতিল
আদালত বলেন, মামলার পারিপার্শ্বিকতা, অপরাধের মাত্রা এবং চেকের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব কারণে এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করা হয়েছে।
তবে চেকের অঙ্কের সমপরিমাণ ২৮ হাজার ১২৫ টাকা অর্থদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।
ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ বলেন, আদালত আইনি সুবিচারের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রয়োগ করেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল পাওনা টাকা আদায় করা। আপিলকারী পুরো টাকা পরিশোধ করায় কারাদণ্ড বাতিলের বিষয়ে তারা আপত্তি করেননি।





















