গাজার শিশুদের চিকিৎসায় তহবিল সংগ্রহ হামজার
- আপডেট সময় : ০৫:২০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৭ বার পড়া হয়েছে
যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজার অসুস্থ ও আহত শিশুদের জরুরি চিকিৎসায় ১ লাখ পাউন্ডেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজার সংকটাপন্ন শিশুদের চিকিৎসা এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করতে চান তিনি। সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
মাঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই ফুটবলার। ‘নুজুম স্পোর্টস’-এর সহযোগিতায় আয়োজিত একটি দাতব্য উদ্যোগ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
গাজার শিশুদের চিকিৎসায় ব্যয় হবে পুরো অর্থ
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে হামজা চৌধুরী তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, সংগৃহীত অর্থের পুরোটাই ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ নামের একটি সংস্থার মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, গাজার যুদ্ধাহত ও গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে যেসব শিশুর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের বিদেশে কিংবা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমেও অর্থটি ব্যবহার করা হবে।
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি, হাসপাতালের ওপর চাপ এবং নিরাপদ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা শিশুদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
‘ছোট প্রচেষ্টাও পরিবর্তন আনতে পারে’
হামজা তাঁর পোস্টে গাজার মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সেখানকার মানুষের সীমাহীন কষ্টের তুলনায় এই আর্থিক সহায়তা হয়তো খুবই সামান্য। তবে ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগও মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
তাঁর এই বক্তব্যে সংকটের সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব উঠে এসেছে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে যারা চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারিয়েছে, তাদের সহায়তায় সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
পোস্টের শেষাংশে ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য দোয়া করেন হামজা। তিনি তাদের চলমান দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তি ও শক্তি কামনা করেন।
হামজার এই উদ্যোগ ফুটবলের বাইরেও তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। গাজার শিশুদের চিকিৎসায় সংগৃহীত অর্থ তাদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ
এদিকে মাঠের লড়াইয়েও ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনেই ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
তবে ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে হামজা চৌধুরীকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ফিফা উইন্ডো শুরু হলে আগামী ৯ নভেম্বর ঢাকায় এসে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
ফলে গাজার শিশুদের জন্য মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে আসন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে এই তারকা মিডফিল্ডারের সামনে।





















