এমবাপ্পেকে মাত্র ২৮ পয়েন্টে হারিয়ে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন, অন্যরা পেলেন কত
- আপডেট সময় : ১২:৪৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইংল্যান্ডের পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন হ্যারি কেইন। তবে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জয়ের পথ মোটেও সহজ ছিল না। ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার।
গত ২৬ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। পুরস্কারটির ৭০ বছরের ইতিহাসে ফ্রান্সের বাইরে প্রথমবারের মতো মূল আয়োজন করা হয় যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে। ইংলিশ ফুটবলের কিংবদন্তি স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই আয়োজন করা হয়।
১৯৫৬ সালে চালু হওয়া ব্যালন ডি’অরের প্রথম বিজয়ী ছিলেন স্ট্যানলি ম্যাথিউস। এবার তারই স্বদেশি হ্যারি কেইনের হাতে উঠেছে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। এর আগে ২০০১ সালে লিভারপুলের হয়ে মাইকেল ওয়েন সর্বশেষ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই সম্মান জিতেছিলেন।
মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় কেইনের
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর ভোটে হ্যারি কেইন পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের সংগ্রহ ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ দুই তারকার মধ্যে ব্যবধান মাত্র ২৮ পয়েন্ট।
আন্তর্জাতিক ১০০ জন সাংবাদিকের ভোটে প্রথম স্থানের ভোটেও এগিয়ে ছিলেন কেইন। তিনি পেয়েছেন ৪০টি প্রথম স্থানের ভোট। অন্যদিকে এমবাপ্পে পেয়েছেন ২৩টি।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে এটি চতুর্থ নিকটতম ভোটের লড়াই। ফলে শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন, তা নিয়ে ছিল ব্যাপক আলোচনা।
দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বাজিমাত কেইনের
পুরো মৌসুমজুড়েই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন হ্যারি কেইন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ৭৩ গোল। ইউরোপের শীর্ষ গোলদাতার স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ছয়টি গোল করেন এই স্ট্রাইকার। সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা তাকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার করে তোলে।
অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪২ গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে ২২ গোল করে আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত সাফল্য ও ভোটের হিসাবে কেইনের চেয়ে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে ফরাসি তারকাকে।
তৃতীয় ইয়ামাল, চারে রদ্রি
কেইন ও এমবাপ্পের পর তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তার পয়েন্ট ৮৮১। প্রথম স্থানের ভোট পেয়েছেন ১৩টি।
চতুর্থ হয়েছেন স্পেনের রদ্রি। তার সংগ্রহ ৭২৬ পয়েন্ট। প্রথম স্থানের ভোট পেয়েছেন ১০টি।
এ ছাড়া পঞ্চম স্থানে থাকা লিওনেল মেসি পেয়েছেন ৬১২ পয়েন্ট। ষষ্ঠ হয়েছেন খিচা কাভেরেইস্কা। তার পয়েন্ট ৫৪১।
ছেলেদের ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ ১০
১. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ) — ১,০৫৫ পয়েন্ট।
২. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদ) — ১,০২৭ পয়েন্ট।
৩. লামিনে ইয়ামাল (স্পেন ও বার্সেলোনা) — ৮৮১ পয়েন্ট।
৪. রদ্রি (স্পেন ও বার্সেলোনা) — ৭২৬ পয়েন্ট।
৫. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামি) — ৬১২ পয়েন্ট।
৬. খিচা কাভেরেইস্কা (জর্জিয়া ও পিএসজি) — ৫৪১ পয়েন্ট।
৭. উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স ও পিএসজি) — ৪১৮ পয়েন্ট।
৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটি) — ৩৭৮ পয়েন্ট।
৯. মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স ও বায়ার্ন মিউনিখ) — ২৯৬ পয়েন্ট।
১০. ফ্যাবিয়ান রুইজ (স্পেন ও পিএসজি) — ২০১ পয়েন্ট।
নারী বিভাগে পুতেয়াসের জয়
পুরুষদের বিভাগে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও নারী বিভাগের ভোটে তুলনামূলক বড় ব্যবধান দেখা গেছে। ৬১৮ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা এওয়া পায়োর পেয়েছেন ৫৩২ পয়েন্ট। দুই ফুটবলারের মধ্যে ব্যবধান ৮৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে ৩৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির খাদিজা শ।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরে পুরুষ বিভাগে কেইনের জয় যেমন ইংল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে, তেমনি এমবাপ্পের সঙ্গে মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধান এবারের ভোটের লড়াইকে করেছে বিশেষ আলোচিত।























