আলোকস্বল্পতায় বন্ধ খেলা, ১০৬ রানের লিড নিয়ে চাপে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৩ বার পড়া হয়েছে
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ইনিংসে অলআউট করে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছে বাংলাদেশ। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামনে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছেন স্বাগতিক ব্যাটাররা। একপর্যায়ে একশ রানের লিড নেওয়াও কঠিন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের জন্য। তবে জাকের আলী অনিক ও নাঈম হাসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছে দল। দিন শেষে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হয়েছে।
তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। প্রথম ইনিংসে পাওয়া লিডের সঙ্গে যোগ হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের মোট লিড এখন ১০৬ রান। ফলে ম্যাচের বাকি সময়ে এই লিড আরও বাড়িয়ে ক্যারিবীয়দের সামনে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দেওয়াই হবে স্বাগতিকদের প্রধান লক্ষ্য।
শুরুতেই বিপর্যয়ে বাংলাদেশ
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। শামার জোসেফের লেগ স্টাম্পের ফুল লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তিনি। আগের ইনিংসে ৭ রান করা তানজিদ এবার শূন্য রানেই বিদায় নেন। দলীয় ১ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান ইসলামের ব্যাটে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। তবে সেই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ইনিংসের ১১তম ওভারে মাত্র তিন বলের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন সাদমান ও তাওহীদ হৃদয়।
চেজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৩০ বলে ১৩ রান করেন সাদমান। অন্যদিকে, ক্যারিবীয় বোলারদের চাপে ফেলার চেষ্টা করতে গিয়ে বড় শট খেলতে যান হৃদয়। কিন্তু ব্যাটে-বলে সংযোগ না হওয়ায় মিড-অনে জোসেফের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আগের ইনিংসে ৪২ রান করা এই ব্যাটার এবার রানের খাতা খুলতে পারেননি।
জাকের-নাঈমের ব্যাটে লিড বাড়ানোর আশা
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে মাঠে নামেন জাকের আলী অনিক। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় মুমিনুল হক ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। তার কানকাশন বদলি হিসেবে ব্যাট করতে নামেন জাকের।
এরপর বাংলাদেশের ইনিংসে আরও বিপর্যয় দেখা দেয়। শান্তর বিদায়ের পরও উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। ফলে দ্রুত রান তোলার পরিবর্তে উইকেট ধরে রাখাই হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ।
এর আগে দলীয় ৩৪ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এর মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হলে আগেভাগে চা বিরতি ঘোষণা করা হয়। বিরতির পরও ব্যাটারদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ক্যারিবীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
তবে জাকের আলী ও নাঈম হাসানের ব্যাটে লিড একশ ছাড়িয়েছে। দিন শেষে তাদের ব্যাটিং বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৭৯ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে চন্দরপল-গ্রিভসের লড়াই
এর আগে তৃতীয় দিনের সকালে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শুরুতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস। দুজন মিলে পঞ্চম উইকেটে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।
১৮৪ বল মোকাবিলা করে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রান করেন চন্দরপল। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
অন্যদিকে, মুমিনুল হকের সহজ ক্যাচ ছাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন গ্রিভস। তবে শেষ পর্যন্ত নাঈম হাসানের অফস্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। ১০৩ বলে ২ চারে ৪৬ রান করেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার।
নাঈমের চার উইকেটে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নেয় বাংলাদেশ। এ সময় মূলত দুই অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের ওপর নির্ভর করে বোলিং আক্রমণ সাজায় স্বাগতিকরা।
অভিষিক্ত ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। পরপর তিনটি চারও মারেন তিনি। তবে ১৫ রানের বেশি এগোতে পারেননি। মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই অলরাউন্ডার।
এরপর শামার জোসেফকে ৪ রানে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ বানান নাঈম। জোমেল ওয়ারিকানকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। পরে জেইডেন সিলসকে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন নাঈম।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাঈম হাসান। তিনি শিকার করেন ৪ উইকেট। মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট। এ ছাড়া হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট পান।
দ্রুততম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা নাঈমের বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকে দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় স্বাগতিকদের নতুন করে চাপে ফেলেছে। চতুর্থ দিনে জাকের আলী ও নাঈম হাসান কতটা লড়াই করতে পারেন, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে বাংলাদেশের লিড আরও বড় করার সম্ভাবনা।






















